1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
পুণ্য স্নানের পথে ঝড়লো লতা রানী'র প্রাণ, প্রশ্নের মুখে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি - যুগের নারায়ণগঞ্জ
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফতুল্লায় অপরাধের সাম্রাজ্য: ‘গেসু পরিবার’ ঘিরে ভয়ংকর অভিযোগ, শাকিলের পুনরুত্থানে আতঙ্ক স্বাধীনতা দিবস হচ্ছে আত্মত্যাগের স্মারক: এমপি মান্নান একদল ছিল একাত্তরের রাজাকার আরেক দল হচ্ছে ২৪-এর রাজাকার-রাজীব স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি জেলা পুলিশের শ্রদ্ধা নিবেদন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে-এড.সাখাওয়াত নারায়ণগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা দিবস পুণ্য স্নানের পথে ঝড়লো লতা রানী’র প্রাণ, প্রশ্নের মুখে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি বৈষম্য দূর করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হবে-ডিসি নারায়ণগঞ্জে নিখোঁজ বিকাশ ব্যবসায়ী, পরিবারে উৎকন্ঠা সিদ্ধিরগঞ্জে সাড়াশি অভিযানে মাদকসহ ১১ অপরাধী গ্রেপ্তার

পুণ্য স্নানের পথে ঝড়লো লতা রানী’র প্রাণ, প্রশ্নের মুখে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
পুণ্যস্নানের পবিত্র আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলো না লতা রানী মন্ডলের (৫০)।

স্বামীর সঙ্গে লাঙ্গলবন্দ স্নানে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হলো তাকে। তবে এই মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বেপরোয়া পরিবহন চলাচল এবং ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর চাঁদাবাজির অভিযোগ।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়কের ফতুল্লার রামারবাগ রিয়া গোপ স্টেডিয়ামের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত লতা রানী মন্ডল ফতুল্লার পিলকুনি এলাকার বাসিন্দা ও সুখ রঞ্জন মন্ডলের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভোরে লাঙ্গলবন্দ পুণ্যস্নানে অংশ নিতে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বাসা থেকে বের হন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নির্মম সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় লতারানীর জীবন। গুরুতর আহত হন তার স্বামী, যিনি চিকিৎসা শেষে বর্তমানে বাসায় ফিরেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তা পারাপারের সময় কুষ্টিয়া থেকে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৫৭৫৩) লতা রানীকে চাপা দেয়। এরপর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি কভার্ডভ্যানকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পরপরই চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ।

স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই শত শত দূরপাল্লার বাস এই সড়ক দখল করে চলাচল করছে। আর এর পেছনে রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের নিয়মিত চাঁদাবাজি।

অভিযোগ রয়েছে, জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর ও কয়েকজন সার্জেন্টের মাধ্যমে মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে এসব পরিবহন।

এমনকি পুলিশ সুপারের নাম ভাঙিয়েও এই অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে দূরপাল্লার পরিবহনগুলো।

নাম প্রকাশ না করার কঠোর অনুরোধে নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিকের একজন কর্মকর্তা জানান, “ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর এডমিন করিম দীর্ঘদিন যাবত জেলা পুলিশ সুপারের (যখন যিনি থাকেন) নাম ভাঙ্গিয়ে দূরপাল্লার শত শত বাস ছাড়াও সকল গণপরিবহন এবং ট্রাক থেকে নিয়মিত লাখ লাখ টাকা মাসোয়ারা আদায় করছেন। অথচ পুলিশ বিভাগের সকলেই জানেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী অত্যন্ত সৎ তিনি কোন অবৈধ টাকা গ্রহণ করেন না বিগত দিনের পুলিশ সুপারের মতো। তাইলে এই টাকা খায় কে ? তবে গুঞ্জন রয়েছে ট্রাফিকের এডমিন ইন্সপেক্টর করিম নিজে বিশাল এই চাঁদাবাজি করে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে কয়েক লক্ষ টাকা মাসোয়ারা দেন আর তাতেই বৈধতা পান চাঁদাবাজির এই মহোৎসব। আর এই করিমের বিশাল চাঁদাবাজির কারণেই এমন অহরহ দুর্ঘটনা এবং আজকের এই মৃত্যু ।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর সাময়িক আলোচনা-সমালোচনা হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই সবকিছু থেমে যায়। এরপর আবারও আগের মতোই বেপরোয়া চলাচল শুরু হয়। আর এই চক্রের মূলে রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি ও দায়হীনতা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত চাঁদাবাজি করলেও দুর্ঘটনার সময় ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি থাকে না বললেই চলে। দুর্ঘটনার দায় শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে থানা পুলিশের ওপর, আর প্রকৃত দায়ীরা থেকে যায় আড়ালে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

একটি পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়নি, বরং প্রশ্ন তুলেছে পুরো সড়ক ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে।

প্রশ্ন এখন একটাই—আর কত প্রাণ গেলে থামবে এই বেপরোয়া বাস আর চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য?

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট