
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
ফতুল্লার কাশিপুর ও নরসিংপুর এলাকায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এক বহুল আলোচিত অপরাধচক্র।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত গিয়াস উদ্দিন গেসুর পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িত। আর এই পরিবারেরই সন্তান শাকিলকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
কুখ্যাত এই অপরাধীদের বাবা গিয়াস ছিলেন চিহ্নিত চোর। যার বিরুদ্ধে ছিলো অসংখ্য মামলা। এই গিয়াস উদ্দিনের বাবা কোরবান আলীও একই পেশায় ঘৃণ্য চুরির কর্মকাণ্ড করায় ব্যাপকভাবে ছিলো সমালোচিত। আর এই পরিবারের সকলের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড ছাড়া ভিন্ন কোন কাজের কথা চিন্তা ই করতে পারে না।
শৈশব থেকেই জঘন্য অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিশোর বয়সেই শাকিল এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় বিপুল অর্থ ব্যয় করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হলে দেশে ফিরে আবারও অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে ওঠে সে।
সন্ত্রাস, মাদক ও ভূমিদস্যুতার বিস্তার
অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত রাজনৈতিক সময়কে পুঁজি করে শাকিল স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে যোগসাজশে নরসিংপুর এলাকায় মাদক ব্যবসা ও ভূমিদখলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সশস্ত্র গ্রুপ এলাকায় ভীতি ছড়িয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
পুরো পরিবারই বিতর্কের কেন্দ্রে
অনুসন্ধানে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গেসু পরিবারের একাধিক সদস্য বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুনর্বাসনের অভিযোগ
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও, বর্তমানে শাকিল আবার এলাকায় সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী এক মৎস্যজীবী নেতার আশ্রয়ে সে পুনরায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং অর্থের বিনিময়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
শাকিলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার দাবি করা হলেও, এখনো তাকে গ্রেফতার না করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও অর্থের মাধ্যমে প্রশাসনের একটি অংশকে প্রভাবিত করে সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সাম্প্রতিক একটি ঘটনায়, এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও দাবি
স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, একটি চিহ্নিত অপরাধী পরিবার কীভাবে বারবার এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, তা রহস্যজনক। কাশিপুর ও নরসিংপুর এলাকার বাসিন্দারা শাকিলসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপসংহার :
পুরো বিষয়টি ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে এলেও সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয়তা ও স্বচ্ছ পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে—এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, নাকি অভিযোগের ভারে চাপা পড়ে যাবে সত্য।