
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কাছাকাছি কোথাও ঘুরতে যেতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ হতে পারে চমৎকার একটি গন্তব্য। রাজধানীর খুব কাছেই অবস্থিত এই জেলায় রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও আধুনিক বিনোদনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বহু দর্শনীয় স্থান। স্বল্প সময় ও তুলনামূলক কম খরচে একদিনেই ঘুরে আসা যায় এমন অনেক জায়গা রয়েছে এখানে। তাই ঈদের ছুটিতে একটু সময় বের করে চাইলে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পর্যটনস্থানে ঘুরে এসে কাটাতে পারেন আনন্দঘন সময়।
![]()
জিন্দা পার্ক
রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা জিন্দা পার্ক নারায়ণগঞ্জের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র। সবুজে ঘেরা এই পার্কে প্রায় ২৫০ প্রজাতির ১০ হাজারের বেশি গাছ, পাঁচটি জলাধার এবং অসংখ্য পাখির বিচরণ রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের জন্য এক শান্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করে। পার্কের ভেতরে রয়েছে গাছের ওপর নির্মিত টংঘর, বড় সানবাঁধানো পুকুর, পুকুরের ওপর সাঁকো, মাটির ঘর, মিনি চিড়িয়াখানা, ক্যান্টিন এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর একটি লাইব্রেরি। পাশাপাশি লেকে নৌবিহারের ব্যবস্থাও রয়েছে। স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই পার্কটি ১৯৮০ সালে প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য নিয়ে গঠিত “অগ্রপথিক পল্লী সমিতি”-র দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছরের প্রচেষ্টার ফল।
ঢাকা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পার্কটি ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে মাগরিব পর্যন্ত খোলা থাকে। সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদের দিনে প্রবেশমূল্য ১৫০ টাকা, অন্যান্য দিনে ১০০ টাকা এবং পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারিত। এছাড়া লাইব্রেরি ব্যবহারের জন্য ১০ টাকা এবং পার্কিংয়ের জন্য ৫০ থেকে ১০০ টাকা ফি নেওয়া হয়। সবুজ প্রকৃতি, লেক ও নান্দনিক স্থাপনার কারণে জিন্দা পার্ক বর্তমানে পিকনিক, ডে-আউট ও স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান।
![]()
![]()
জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্ক
রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্ক বর্তমানে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় একটি বিনোদনকেন্দ্র। নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরের চাষাড়া থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মাত্র ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে গাউছিয়াগামী বাসে জলসিঁড়ি স্টপেজে নেমে অটোরিকশায় পার্কে পৌঁছানো যায়। চাষাড়া থেকেও বাস বা সিএনজি পাওয়া যায় এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য পার্কিং সুবিধা রয়েছে। পার্কটি সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে, তবে শুক্রবার সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকে। এখানে প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২৩০ টাকা, সামরিক সদস্যদের জন্য ২০ টাকা এবং ৬ বছরের নিচে শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ফ্রি। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে লেকে প্যাডেল বোট (৩০ মিনিট ১০০ টাকা), স্পিডবোট (৩০ মিনিট ৫০০ টাকা, ১০–১২ জন), কিডস জোন, গোলকধাঁধা, থ্রিডি ভিশন থিয়েটার, উন্মুক্ত মঞ্চ এবং কৃত্রিম জলপ্রপাত। পরিবার নিয়ে গেলে ব্যক্তিগত গাড়ি বা রিজার্ভ অটোরিকশা সুবিধাজনক।
![]()
পানাম নগর
ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে চাইলে সোনারগাঁয়ের পানাম নগর হতে পারে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং ঢাকার গুলিস্তান বা সায়েদাবাদ থেকে প্রায় ২৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রাচীন বণিক শহরটি এখন দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র। ঢাকা থেকে সোনারগাঁগামী বাসে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নেমে অটোরিকশায় পানাম নগরে পৌঁছানো যায়। চাষাড়া থেকেও বাস বা সিএনজি পাওয়া যায়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এই স্থানটি এবং বাংলাদেশি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। সারিবদ্ধ ঐতিহাসিক ভবন, প্রাচীন বণিক শহরের ধ্বংসাবশেষ এবং ছবি তোলার উপযোগী পরিবেশ এই স্থানের প্রধান আকর্ষণ।
পানাম নগরের পাশেই অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন বা লোকশিল্প জাদুঘর। নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার। সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া হয়ে অটোরিকশায় এখানে পৌঁছানো যায়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই জাদুঘর এবং প্রবেশমূল্য প্রায় ৫০ টাকা। এখানে বাংলার লোকজ নিদর্শন, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি বিশাল লেক ও সবুজ পরিবেশ দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
হাজীগঞ্জ দুর্গ
নারায়ণগঞ্জ শহরের কাছাকাছি ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে বন্দর উপজেলার হাজীগঞ্জ দুর্গ উল্লেখযোগ্য। নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে প্রায় ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। চাষাড়া থেকে রিকশা, অটোরিকশা বা সিএনজিতে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। স্থাপনাটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। মুঘল আমলের এই দুর্গটির স্থাপত্যশৈলী এবং শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের মনোরম দৃশ্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।
সোনারগাঁয়ের সাচিলপুর গ্রামে অবস্থিত সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধিও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর চাষাড়া থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার এবং ঢাকার গুলিস্তান থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সমাধিস্থলে যেতে হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নামতে হয়। সেখান থেকে সিএনজি বা রিকশায় প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরের সাচিলপুর গ্রামে পৌঁছানো যায়। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এবং এখানে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট লাগে না। কালো পাথরে নির্মিত প্রায় ৩ মিটার লম্বা, ১ দশমিক ৫০ মিটার চওড়া এবং ৯০ সেন্টিমিটার উঁচু এই সমাধিটি তিন ধাপবিশিষ্ট। নিচের অংশ পাথুরে পাটাতন, মাঝের অংশ কারুকার্যময় বাক্স আকৃতির এবং উপরের অংশ নৌকার ছইয়ের মতো নির্মিত। খিলান, ঝুলন্ত শেকল, পদ্ম-দোলক ও ঘণ্টার সূক্ষ্ম নকশা এটিকে দেশের বিরল স্থাপত্য নিদর্শনের একটি করে তুলেছে।
![]()
সুবর্ণগ্রাম অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট
আধুনিক বিনোদনের স্বাদ নিতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতায় অবস্থিত সুবর্ণগ্রাম অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে যেতে পারেন। প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই বিনোদনকেন্দ্রটি নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার এবং ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে। ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে ৩০০ ফিট সড়ক দিয়ে ভুলতায় পৌঁছানো যায়। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই পার্ক। এখানে প্রবেশ টিকিট প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০০ টাকা এবং ১০ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ২০০ টাকা। এছাড়া সুইমিং পুল ৩০০ টাকা, স্পিডবোট ১০০ টাকা, হর্সকার রাইড ১০০ টাকা এবং লেকের পাশ দিয়ে ট্রেন রাইড ৫০ টাকা। রিসোর্টের কক্ষ ভাড়া ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। পার্কটিতে রয়েছে আধুনিক রাইড, ওয়াটার পার্ক, পিকনিক স্পট, রেস্টুরেন্ট, জুস বার ও কফি শপ।
ঈদের ছুটিতে নিরিবিলি ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে সোনারগাঁয়ের বারদী গ্রামের লোকনাথ আশ্রমে ঘুরে আসতে পারেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার এবং ঢাকার গুলিস্তান থেকে প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই আশ্রমে যেতে হলে গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ বা বোরাক পরিবহনের বাসে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নামতে হয়। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সরাসরি আশ্রমে পৌঁছানো যায়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এবং প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট লাগে না। এখানে রয়েছে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর সমাধি, শত বছরের পুরনো বকুল গাছ, কামনা সাগর ও জিয়স নামে দুটি পুকুর এবং মহাপুরুষের বিশাল তৈলচিত্র। প্রতি বছর ১৯ জ্যৈষ্ঠ তিরোধান উৎসব উপলক্ষে এখানে বড় ধর্মীয় আয়োজন হয়।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বন্দর উপজেলার সাবদি গ্রাম একটি আকর্ষণীয় ভ্রমণস্থান। নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে যেতে হলে নদী পার হতে হয়। ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া বা বন্দরের ২ নম্বর ঘাটে এসে সেখান থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে অটো বা ইজিবাইকে সাবদি গ্রামে পৌঁছানো যায়। এখানে কোনো প্রবেশমূল্য নেই। শীতকালে সরিষা ফুলের ক্ষেত এবং বসন্তকালে গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, কসমস, ডেইজি জিপসি, ডালিয়া ও চন্দ্রমল্লিকার বাগান গ্রামটিকে রঙিন করে তোলে। সূর্যাস্তের সময় দিগন্তজোড়া ফুলের মাঠের দৃশ্য বিশেষ আকর্ষণীয়।
ঐতিহাসিক স্থাপত্য দেখতে চাইলে আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম জমিদার বাড়িও ঘুরে দেখা যেতে পারে। নারায়ণগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জমিদার বাড়িতে যেতে হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে পুরিন্দা বাসস্ট্যান্ডে নেমে রিকশা বা হেঁটে পৌঁছানো যায়। এখানে কোনো নির্ধারিত প্রবেশমূল্য নেই। সবুজ গাছপালায় ঘেরা পুরনো স্থাপত্য, পুকুরঘাট ও নান্দনিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।
রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থান। ১৮৮৯ সালে বাবু রামরতন ব্যানার্জী প্রায় ৬২ বিঘা জমির ওপর এটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এটি সরকারি মুড়াপাড়া কলেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থাপনাটিতে রয়েছে প্রায় ৯৫টি কক্ষ, বিশাল প্রবেশ ফটক, ৩০ ফুট উঁচু মন্দিরের চূড়া, নাচঘর, কাছারি ঘর ও দুটি পুকুর।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ দেখতে চাইলে সোনারগাঁয়ের কাইকারটেক হাটেও ঘুরে আসা যায়। প্রতি রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বসা এই হাটে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষও আসেন। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বসা এই হাটে বিশেষ আকর্ষণ হলো প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো নৌকার হাট এবং ঐতিহ্যবাহী পুতা মিষ্টি।
প্রকৃতির ভিন্ন রূপ দেখতে চাইলে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা মায়াদ্বীপে ঘুরে আসা যেতে পারে। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা থেকে বৈদ্যের বাজার ঘাটে গিয়ে নৌকা ভাড়া করে এখানে পৌঁছানো যায়। নৌকা সাধারণত ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় ভাড়া পাওয়া যায়। তবে নিরাপত্তার জন্য সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসা ভালো।
রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুরে প্রায় ১৫০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা জিন্দা পার্কও দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। এখানে রয়েছে প্রায় ২৫০ প্রজাতির ১০ হাজারের বেশি গাছ, পাঁচটি জলাধার, টংঘর, লাইব্রেরি, ক্যান্টিন ও নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা। ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রবেশমূল্য ১৫০ টাকা এবং অন্যান্য দিনে ১০০ টাকা।
এছাড়া সোনারগাঁ উপজেলার পেরাব গ্রামে নির্মিত বাংলার তাজমহল বা দ্বিতীয় তাজমহলও একটি জনপ্রিয় ভ্রমণস্থল। ২০০৩ সালে নির্মাণ শুরু হয়ে ২০০৮ সালে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এখানে প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ১৫০ টাকা এবং একই টিকিটে তাজমহল ও পিরামিড উভয়টি দেখা যায়।
রাজধানীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় এসব জায়গার বেশিরভাগই একদিনেই ঘুরে দেখা সম্ভব। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটাতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের এসব দর্শনীয় স্থান হতে পারে স্বল্প খরচে সুন্দর এক ভ্রমণের গন্তব্য।