
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি অফিস—তালা ঝুলছে, আর অপেক্ষায় প্রতিমন্ত্রী !
এমন লজ্জাজনক চিত্রই উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জে আকস্মিক এক পরিদর্শনে।
আজ বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৯টা পাঁচ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ-এর সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত নাসিকের ভূমি অফিসে হঠাৎ উপস্থিত হন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, সরকারি নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অফিসে তালা ঝুলছে—কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্বে চরম গাফিলতির এই দৃশ্য শুধু বিস্ময়করই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সেবার প্রতি অবহেলার নগ্ন উদাহরণ।
প্রায় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। পরে এক কর্মচারী এসে তালা খুললে প্রতিমন্ত্রী ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু তখনো অফিস কার্যত জনশূন্য—যেন দায়িত্বহীনতার এক নীরব নাট্যমঞ্চ।
ঘটনাস্থলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি এ ঘটনাকে “চরম অনাকাঙ্ক্ষিত” উল্লেখ করে বলেন, “যারা জনগণের সেবা দেওয়ার দায়িত্বে থেকেও দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা—অফিসে অনুপস্থিতি আর ‘চলেই যাবে’ সংস্কৃতি আর সহ্য করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতিটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। মাঠপর্যায়ে এমন উদাসীনতা শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং সাধারণ মানুষের ন্যায্য সেবা পাওয়ার অধিকারকেও ভূলুণ্ঠিত করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের প্রশ্ন—যেখানে প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত থাকলেও অফিস খোলা থাকে না, সেখানে সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন কীভাবে সেবা পায় ?
সিদ্ধিরগঞ্জের এই চিত্র যেন গোটা ব্যবস্থাপনার এক কঠিন বাস্তবতা সামনে এনে দিয়েছে—কাগজে-কলমে সময়নিষ্ঠা থাকলেও বাস্তবে চলছে দায়সারা দায়িত্ব পালন। এখন দেখার বিষয়, এই ‘তালা ঝুলানো’ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আদৌ কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় কিনা।