
যুগের নারায়ণগঞ্জ;
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন ধর্মগঞ্জ মাওলা ঘাট এলাকায় আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে অভিনব কৌশল হিসেবে ফাস্টফুডের দোকানের আড়ালে চলছে নিষিদ্ধ ইয়াবার রমরমা পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় কুখ্যাত মাদক সম্রাট মেহেদীর নাম।
নেপথ্যের কারিগর ও সেলসম্যান
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাওলা ঘাট এলাকায় অবস্থিত একটি ফাস্টফুড দোকানকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ইয়াবা হাতবদল হচ্ছে। এই ব্যবসার প্রধান নিয়ন্ত্রক মেহেদী হলেও মাঠ পর্যায়ে বিক্রয়কর্মী বা ‘সেলসম্যান’ হিসেবে কাজ করছে বুলবুল, সেলিম, ইব্রাহিম । চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই বুলবুল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেনের ভাগিনা হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক এই পরিচয়ের দাপট দেখিয়ে সে এলাকায় এক প্রকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এবং সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ রাখছে।
স্পট যখন ফাস্টফুডের দোকান
দিনের বেলা সাধারণ গ্রাহকের আনাগোনা থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই দৃশ্যপট বদলে যায়। ফাস্টফুড আইটেম ডেলিভারির আড়ালে ছোট ছোট প্যাকেটে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে। মাদক সেবী ও খুচরা বিক্রেতাদের নিরাপদ আস্তানা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মাওলা ঘাট এলাকা।
”আমরা আতঙ্কে থাকি। দোকানের সামনে সারাক্ষণ অপরিচিত ও সন্দেহভাজন যুবকদের আনাগোনা থাকে। প্রতিবাদ করলে রাজনৈতিক বড় ভাইদের ভয় দেখানো হয়।”
— নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক এলাকাবাসী
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
এর আগেও বিভিন্ন সময় ধর্মগঞ্জ এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চললেও এই চক্রটি বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় মেহেদী ও বুলবুলের এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে অতি দ্রুত এই ‘মাদক স্পটে’ র্যাব ও পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।