1. admin@jugernarayanganj.com : jugernaraya nganj nganj : jugernaraya nganj nganj
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পুলিশ বলছে পলতাক: আড়াইহাজারে অস্ত্র মামলার আসামি ও সাবেক ছাত্রদল নেতার শোডাউন আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে এমন কোন শক্তি নেই পরাজিত করবে-এড.সাখাওয়াত খেজুর গাছ বিজয়ী হলে তারেক রহমান বিজয়ী হবে-কাসেমী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও ঐতিহাসিক হবে-ডিসি রূপগঞ্জে দুই সাংবাদিকদের উপর হমলা, গ্রেপ্তার-১ আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন চারজন ত্রয়োদশ নির্বাচন নারায়ণগঞ্জ: দুটি আসনে নির্ভার বিএনপি তিনটিতে বিদ্রোহ নারায়ণগঞ্জ-৩: নির্বাচনী উত্তাপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস ফতুল্লায় মব সৃষ্টির চেষ্টা: প্রতিবাদ করায় বোমা নিক্ষেপ আড়াইহাজারে যৌথ অভিযানে অস্ত্র, মাদক ও নগদ অর্থসহ ৪ জন আটক

ত্রয়োদশ নির্বাচন নারায়ণগঞ্জ: দুটি আসনে নির্ভার বিএনপি তিনটিতে বিদ্রোহ

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) এ অনেকটা নির্ভার বিএনপির প্রার্থীরা। তাদের বিরুদ্ধে দলে ‘বিদ্রোহ’ নেই। তবে বাকি তিনটি আসনে বিদ্রোহী জটিলতায় ভুগতে হতে পারে দল ও জোট সমর্থিত প্রার্থীদের। এর মধ্যে শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়া নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপির ভোট চার ভাগে বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপুকে (দীপু ভূঁইয়া) প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এ আসনে দলটির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাবেক এমপি কাজী মনিরুজ্জামান। দীপু ভূঁইয়া মনোনয়ন পাওয়ার পর পরই তাঁর সঙ্গে সমঝোতা হয়ে যায়। ফলে দীপু ভূঁইয়াকে নিজ দল থেকে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীর মোকাবিলা করতে হচ্ছে না। অন্য দল থেকেও কোনো জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এ ব্যাপারে দীপু ভূঁইয়া বলেন, আমি এখানে সবার সহযোগিতা পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ এখানে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আসনটি আমাদের নেতাকে উপহার দেবে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তিনি এ আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ আসনে মনোনয়ন নিয়ে বেশ নাটকীয়তা হয়েছে। প্রথমে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মনোনয়ন পেলেও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পরে তিনি আবার ফেরার ঘোষণা দিলেও দল মনোনয়ন দিয়ে দেয় মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খানকে। পরে মনোনয়ন দেয় সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে। আবুল কালামই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবেন। কেউ তাঁর বিরোধিতাও করছেন না।

এ প্রসঙ্গে প্রথমে মনোনয়ন পাওয়া মাসুদুজ্জামান বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত আমি মেনে নিয়েছি। ধানের শীষ যে পেয়েছে, আমি তাঁর পক্ষেই আছি। আমি দলের প্রার্থীর হয়ে একসঙ্গে কাজ করব।

বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া আবুল কালাম বলেন, মনোনয়ন পেতে অনেকেই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। কিন্তু এখন কেউ আমার বিরোধী নয়। সবাই ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ।

বিরোধ তিনটি আসনে
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। এ আসনে তাঁর জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বী নিজ দলেরই সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি এ আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির এমপি ছিলেন। স্বতন্ত্র নির্বাচন করা প্রসঙ্গে আতাউর রহমান খান আঙ্গুর বলেন, এ আসনে বিএনপি যাকে মনোনীত করেছে তাঁর ওপরে জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের আস্থা নেই। তাদের অনুরোধেই আমি এখানে প্রার্থী হয়েছি। ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হব।

বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, বিগত দিনে আতাউর রহমান আঙ্গুর ধানের শীষের ওপর নির্ভর করেই জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিজের কোনো ভোট নেই। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি আশা করব, দলের নেতা হিসেবে তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাড়াবেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি। এখানে তাঁর দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম। বাছাইয়ে রেজাউল করিমের মনোনয়ন আয়কর রিটার্ন-সংক্রান্ত জটিলতায় বাতিল হয়েছে।

এ ব্যাপারে রেজাউল করিম বলেন, আমি আমার মনোনয়নপত্র বৈধ করার ব্যাপারে আপিল করব। আশা করি, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব। ‎ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি। এবার তিনি এ আসনের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে। এর মধ্যেই গিয়াস উদ্দিনকে দল বহিষ্কার করেছে। নির্বাচন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীরাই আমার মনোনয়নপত্র কিনেছে, জমা দিয়েছে এবং আমার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণ চান বলেই আমি নির্বাচন করছি। কোনো আসনে নির্বাচন করবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, নেতাকর্মী ও জনগণ যেখানে চাইবে সেখান থেকেই নির্বাচন করব।

নারায়ণগঞ্জ-৪ এ সংকট চতুর্মুখী
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ঘিরে চতুর্মুখী সংকট দেখা দিয়েছে। আসনটি বিএনপি তাদের জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু সেটি না মেনে এখানে গিয়াস উদ্দিন ছাড়াও নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ্ আলম। স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেনে নির্বাচন করবেন বলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে দলীয় শৃংঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাহআলমকে দল থেকেও বহিষ্কার করেছে। শাহ্ আলম ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সারাহ বেগম কবরীর সঙ্গে বিএনপি থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ তাঁর সমর্থক।
এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমপি হওয়া এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ আলীও এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দল তাঁকে বেছে নেয়নি। তিনি এখন গেছেন রিপাবলিকান পার্টি থেকে নির্বাচন করবেন। তার সমর্থকদের একটা বড় অংশই বিএনপির নেতাকর্মী।

নারায়ণগঞ্জ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আহমেদ হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) ঐতিহাসিকভাবেই আওয়ামী লীগবিরোধী ভোটারের এলাকা। এখানে গিয়াস উদ্দিন, শাহ আলম, মোহাম্মদ আলী– তিনজনই যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাহলে বিএনপির ভোট এই তিনজন এবং জোটের প্রার্থী মিলে চার ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। যদি জোট প্রার্থী ধানের শীষ মার্কা ব্যবহার করতে পারতেন, তাহলে হয়তো তিনি একটা সুবিধা পেতেন। এখন যার যার নিজস্ব প্রভাবই ভোট টানার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হবে।

এসব বিভক্তি তাঁর বিজয়ে প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন শরিক দলের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সমর্থন পাওয়া মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। তিনি বলেন, বিএনপি সংগঠন নির্ভর কম, ভোটার নির্ভর দল বেশি। বিএনপির প্রার্থী যেই হবেন, দলটির ভোটাররা তাঁর সঙ্গে থাকেন। এ ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরাও আমার সঙ্গেও আছেন। তাই ইনশাআল্লাহ আমি জয়ী হব।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট