
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
অভাবের তাড়নায় সইতে না পেরে নবজাতক কন্যা সন্তানকে প্ল্যাস্টিকের ব্যাগে ভরে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ফেলে রাখার চেষ্টা করেছেন এক দম্পতি। বিষয়টি জানাজানি হবার পর পুলিশ ও সমাজসেবা কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে ওই দম্পতি মুচলেকা দিলে শিশু কন্যাকে আবারও তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের বন্দর থানার বক্তারকান্দী এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে এলাকাবাসী। পরে তারা বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ আসে।
বন্দর থানা পুলিশ বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানালে খবর পেয়ে সমাজসেবা অফিসার মো. ফয়সাল দ্রুত থানায় এসে মা ও বাবার কাছ থেকে তাদের বক্তব্য শুনে মুচলেকা নিয়ে উদ্ধার করা নবজাতক শিশুটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
পুলিশ জানায়, ওই শিশুটির বাবা আব্দুল হক ও মা রাহেনা বেগম। তারা রংপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। ১৪ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আরো তিনটি সন্তান রয়েছে। রাহেনা বেগমের স্বামী আব্দুল মালেক শারীরিক প্রতিবন্ধিতা নিয়েও রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তারা থাকেন বন্দরের বক্তারকান্দী এলাকার মোজাম্মেল মিয়ার ভাড়াবাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ২টায় এ বাড়িতেই রাহেনা বেগম এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অভাবের তাড়না সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় মা তার নবজাতক সন্তানকে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতরে ভরে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় এলাকাবাসী বিষয়টি দেখতে পায়। পরে এলাকাবাসী প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে নবজাতক শিশুটি উদ্ধার করে জরুরী সেবা ৯৯৯ বন্দর থানা পুলিশকে অবগত করে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. ফয়সাল জানান, মুচলেকা নিয়ে দুপুরে তার পিতা- মাতার কাছে নবজাতককে হস্তান্তর করা হয়।