
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আপনাদের মনের কথা যদি আরও থাকে, আপনাদের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা আছে। আপনারা শুধু করণীয় দেখিয়ে দিবেন যে কাজটি আপনার। দেখবেন আপনাদের সেবকের মতো সেবাটি করে গিয়েছি। ”
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের নিতাইগঞ্জে নারায়ণগঞ্জ সম্মিলিত সনাতনী মঞ্চের ব্যনারে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আপনারা অনেকেই প্রত্যাশা করেছেন যে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে আমি আপনাদের পাশে থাকি। আমিও কিন্তু এটাই চাই, ২০ বছর আগে আপনাদের পাশে ছিলাম এবং এই ২০ বছর আপনাদের অপেক্ষা করেছি আজকের মতো একটি দিনের জন্য। আপনাদের সাথে সরাসরি দেখা ও সাক্ষাৎ হবে। এজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “একজন রণবীর রায় চৌধুরী তৎকালীন সময় আমার নির্বাচনের প্রথম অংশে আমার সাথে গিয়ে মনোনয়ন পত্র প্রদান করতেন। এই আস্থাটি ছিলো আপনাদের সংগঠনের স্বীকৃতি। উনি একজন একক রণবীর রায় চৌধুরী নয়, উনি একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা। এবং আপনাদের সকলের প্রতিনিধিত্ব করতেন। ওনার মাধ্যমে আমি আপনাদের সকলেই পেয়ে যেতাম। সেই প্রত্যাশায় এবারও আমি আশাবাদী আপনারা সকলে আমার পাশে থাকবেন।”
মতবিনিময় সভায় রণবীর রায় চৌধুরীর ছেলে আলোকচিত্রী জয় কে রায় চৌধুরী বলেন, “২০০১ সালে রমনা কালী মন্দিরটি খুবই অবহলিত অবস্থায় ছিল। তখন ম্যাডাম জিয়ার নির্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং রণবীর রায় চৌধুরী দুর্গাপূজার মাধ্যমে ওখানে পূজাটা শুরু করে। সেই পূজার আয়োজনের পেছনের নেপথ্যে অনেক কন্ট্রিবিউশন এই নারায়ণগঞ্জ থেকে হয়েছে। পুনরায় দুর্গাপূজার শুরুর যে প্রচলন ২০০১ এ রমনা কালী মন্দিরে শুরু হয়েছিল সেটায় নারায়ণগঞ্জের অনেক মানুষের অন্তর্ভুক্তি আছে। আমার বাবা ছিলেন, তিনিও ছিলেন এবং অনেক মানুষ এটার সাথে যুক্ত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ শহরটা সম্প্রীতির শহর। সম্প্রীতি ছড়ে দেওয়ার যে কাজটা তা শহর থেকে পেরিয়ে জেলা, বাকি জেলা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “বাবা যখন ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব নেন তখন আমাদের এমপি ছিলেন কালাম কাকা। কালাম কাকা সিগনেচার না করলে রণবীর রায়চৌধুরী সই করতে পারতেন না। কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ছিলেন দুজনের মিলে ট্রাস্টি অনুদান সেকশন হত। বাংলাদেশে সবচাইতে বেশি সংখ্যক অনুদান ২০০১ সালে আবুল কালাম এবং রণবীর রায় সিগনেচারে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে গেছে। আমার ধারণা সর্বোচ্চ সংখ্যক বিএনপির আমলে ২০০১ থেকে অনুদান এই কালাম সাহেব এবং রণবীর রায়ের চৌধুর স্বাক্ষরে হয়েছে।”
হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি পরিতোষ কান্তি সাহার সভাপতিত্বে ও জয় কে রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, প্রবীর কুমার সাহা, আবু কাউসার আশা, লিটন পাল, নিতাইগঞ্জ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবাস সাহা, তারাপদ আচার্য, পূজা উদযাপন পরিষদ ফ্রন্ট সদস্য সচিব কার্তিক ঘোষ, সনাতনী মঞ্চের সদস্য অভয় রায়, অজিত সাহা, অঙ্কণ রানা, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক বিকাশ সাহা, অরুণ দেবনাথ, স্বপন দাস প্রমুখ।