
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানি খাশেরগাঁও ও ছোট কোরবানপুর এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সময় এক নারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে সেনাবাহিনী, র্যাব-১১ ও পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে খাশেরগাঁও গ্রাম থেকে তাদের আটক করে সোনারগাঁ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সাকিব (২৫), সোহেল (৩৫), রাশেদ (৩০), ফখরুদ্দিন (৪০), জিসান (২০), লোকমান (২৪) এবং শান্তা আক্তার।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং সংঘর্ষের অভিযোগ ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, খাশেরগাঁও এলাকার রাসেল মিয়া ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
এর আগে প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলি বর্ষণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ওই ঘটনায় গত ৩১ জানুয়ারি র্যাব-১১ ফতুল্লা থানার মুজা মিয়ার ছেলে মো. জিয়া (২৫), ওরফে ‘শুটার জিয়া’কে গ্রেফতার করে।
অভিযান প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর মেজর সাজ্জাদ হোসেন ও সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিবুল্লাহ জানান, এলাকায় সংঘর্ষ ও অস্ত্র ব্যবহারের ধারাবাহিক অভিযোগের ভিত্তিতেই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তবে অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অভিযান চলাকালে কিছু বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ অভিযোগে শনিবার দুপুরে খাশেরগাঁও বালুর মাঠে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
এ বিষয়ে ওসি মহিবুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কিছু লোক নিজেরাই ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো করে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।