
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘একাদশ জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে এবং ভবানী শংকর রায়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদ, প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক জাহিদুল হক দীপু এবং ত্বকীকে নিয়ে রচনা লেখায় ‘ত্বকী পদক’প্রাপ্ত বিজয়ী দেবশ্রিতা পাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্বকীর মা রওনক রেহানা।
বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ত্বকী সৃজনশীলতার প্রতীক। শাসকগোষ্ঠী সব সময় তরুণদের ভয় পায়, কারণ তারাই দেয়াল ভাঙতে চায়, অচলায়তন ভাঙতে চায়। ত্বকী মানুষের ঐক্যের কথা বলেছিল। মানুষের ঐক্য ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেই ত্বকীর ঘাতকদের রক্ষা করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো না বদলালে স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত স্বাধীন বিচারব্যবস্থা।ত্বকীর মতো নির্মম হত্যার বিচার ১৩ বছরেও না হওয়া রাষ্ট্র ও সরকারের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। সরকার বদল হলেও বিচার না পাওয়ায় আমরা গভীরভাবে হতাশ।”
সভাপতির বক্তব্যে রফিউর রাব্বি বলেন, “বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক প্রয়োজনে বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করছে। একটি শিশুকে হত্যার পরও ১৩ বছরে অভিযোগপত্র না দেওয়া রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতার প্রমাণ। আমরা শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, ত্বকীসহ সব হত্যার সুবিচার চাই।”
অনুষ্ঠানে সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত ৬০ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ছয়টি বিভাগে শ্রেষ্ঠ ছয়জনকে প্রদান করা হয় ‘ত্বকী পদক’। পাশাপাশি সেরা দশজনের লেখা ও আঁকা নিয়ে প্রকাশ করা হয় স্মারকগ্রন্থ ‘ত্বকী’।