যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের রান্নাঘরসহ সার্বিক পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি আগামী তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালের রান্নাঘর ও অন্যান্য স্থানের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যথায় সিভিল সার্জনসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে ১০ জেলায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) সেবা উদ্বোধন ও পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির এক শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজারই নারী। এসব কর্মী উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে আধুনিক ও কার্যকর সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। বাড়িতে প্রসূতির ডেলিভারির পরিবর্তে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা হবে।
হামের টিকাদান কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনা ও সময়মতো টিকা আমদানি না করার কারণে হামের ঝুঁকি বেড়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউনিসেফের সহযোগিতায় দ্রুত টিকা সংগ্রহ করে প্রথমে ১৮ জেলায় এবং পরে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতের মতো দায়িত্ব পালনের দিন শেষ। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।
ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রকোপ মোকাবিলায় নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ১০ জেলায় আইসিইউ সেবা চালুর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এসব আইসিইউ চালু করা হয়েছে, যা সংকটকালীন সময়ে রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
তিনি জানান, নারীদের জন্য বিদেশি সহযোগিতায় দুটি ১ হাজার ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এসব হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার চিকিৎসাসহ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা থাকবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে চারটি হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ের গুরুতর রোগীদের দ্রুত জেলা সদর বা উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তরে এসব হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।
এর আগে সকাল ১০টায় মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময়সূচি থাকলেও তিনি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছান। এ সময় তিনি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি রেজিস্টার পর্যালোচনা করেন। পরে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। একপর্যায়ে রান্নাঘরে ব্যবহৃত হাঁড়ি-পাতিল ও সরঞ্জাম নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান। এতে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত