যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ থেকে ভোজ্যতেল বোঝাই ট্রাক নিয়ে রওনা দেওয়ার পর নিখোঁজ হন চালক আব্দুর রহমান।
এক সপ্তাহ পর ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার কোলাবাজার এলাকায় পরিত্যক্ত ট্রাকের ভেতর থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হলে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
পরে মাগুরা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের তদন্তে বেরিয়ে আসে পরিকল্পিত ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র।
পুলিশ জানায়, যশোরের রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা ট্রাকচালক আব্দুর রহমান গত ১৬ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে ৬০ ব্যারেল ভোজ্যতেল নিয়ে মাগুরার উদ্দেশে রওনা দেন। তেলগুলো মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারের এক ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
প্রায় ১৯ লাখ টাকা মূল্যের এ চালানটি নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিবহন করা হচ্ছিল।
তবে ফরিদপুরের কামারখালি সেতু পার হওয়ার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে বিষয়টি প্রথমে গুরুত্ব পেলেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না।
গত ২০ মে ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার কোলাবাজার এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ট্রাকটি উদ্ধার করে পুলিশ। ট্রাকের ভেতরে পাওয়া যায় অর্ধগলিত একটি মরদেহ। প্রথমে অপমৃত্যু হিসেবে ধরা হলেও পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নেয়।
পরবর্তীতে ২৩ মে বিষয়টি মাগুরা পুলিশ সুপারকে জানানো হলে তদন্তে নামে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।
প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ।
মাগুরা পুলিশ জানায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ট্রাকটি ছিনতাই করা হয় এবং চালক আব্দুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি এলাকা থেকে আজাদ হোসেন ওরফে হিটলারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিন সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে লস্কারপুর, জাগলা, বুধইরপাড়া ও রাজিবের পাড়া এলাকা থেকে ৪৫ ব্যারেল ভর্তি এবং একটি আংশিক তেলসহ মোট বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে সাতটি খালি ব্যারেল ও নগদ ৩ লাখ ৭ হাজার ৭০০ টাকা।
মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাই ও হত্যা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মহলে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবহন খাতে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর পূর্বে একাধিক এমন ডাকাতি ও ট্রাক লূটের ঘটনা নারায়ণগঞ্জে ঘটলেও অপরাধী চক্র কারাগার থেকে বেড়িয়ে ফের এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা বলছেন, দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ থেকে পণ্য পরিবহনে যদি এমন ঝুঁকি থাকে, তবে তা ব্যবসার জন্য বড় হুমকি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদার না করলে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে। এজন্য প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, চেকপোস্ট জোরদার এবং আন্তঃজেলা সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত