যুগের নারায়ণগঞ্জ:
দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারী মোকাম নিতাইগঞ্জকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে নতুন এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট—আর এর কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে গম ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন মৃধার নাম।
একাই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটের ইজারা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি কার্যত ওই অঞ্চলে খাদ্যপণ্য ব্যবসায় একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছ থেকে।
নিতাইগঞ্জে ‘একক দখলদারিত্ব’—প্রশ্নের মুখে ইজারা প্রক্রিয়া
জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর এলাকার ১৩টি ঘাট, শুল্ক আদায়কেন্দ্র ও ইকোপার্কের দরপত্র আহ্বান করে।
এর মধ্যেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ঘাট একাই ইজারা নেন নিজাম উদ্দিন মৃধা।
এই তিনটি ঘাট দিয়েই দেশের অন্যতম বড় ভোগ্যপণ্যের মোকাম নিতাইগঞ্জে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য ওঠানামা করে, যেখান থেকে সারা দেশে সরবরাহ নিশ্চিত হয়।
এমন কৌশলী দখলকে অনেকেই “পরিকল্পিত বাজার নিয়ন্ত্রণের অংশ” হিসেবে দেখছেন।
অভিযোগ উঠেছে, এটি শুধুমাত্র ব্যবসা নয়—বরং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে একক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
‘নতুন গডফাদার’ তৈরির নীলনকশা ?
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই তিনটি ঘাটের ইজারা নেওয়ার পর থেকেই নিজাম উদ্দিন মৃধা এলাকায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন এক সাবেক নারী কাউন্সিলর, টানবাজার এলাকার এক যুবদল নেতা এবং কয়েকজন বিতর্কিত শ্রমিক নেতা।
এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ—
ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, এসব বিতর্কিত ব্যক্তিদের একত্র করে একটি ‘সন্ত্রাস নির্ভর অর্থনৈতিক বলয়’ তৈরি করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য নিতাইগঞ্জের খাদ্যপণ্য বাণিজ্যে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও ক্ষমতার রূপান্তর
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই চক্রটি বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে নতুন করে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করছে। পুরনো পরিচয় বদলে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় হয়ে তারা আবারও প্রভাব বিস্তারে নেমেছে—যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ব্যবসার আড়ালে ‘অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’
নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ঘাট ইজারা নেওয়ার পর থেকেই মালামাল ওঠানামা, শ্রমিক নিয়োগ, পরিবহনসহ প্রতিটি খাতে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। এতে করে সাধারণ ব্যবসায়ীরা স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনায় বাধার মুখে পড়ছেন।
তাদের আশঙ্কা, এই সিন্ডিকেট পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠলে—
পরিবার থেকেও ‘দায় এড়ানোর চেষ্টা’
এ বিষয়ে নিজাম উদ্দিন মৃধার বড় ভাই জসিম উদ্দিন মৃধা বলেন, “সে (নিজাম) আমাদের অবাধ্য। এসব বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করে না, আমাদের কথাও শোনে না।”
তবে এই বক্তব্যকে অনেকেই ‘দায় এড়ানোর কৌশল’ হিসেবে দেখছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সব মিলিয়ে, একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সরবরাহ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে এমন একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত পরিস্থিতি উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নিতাইগঞ্জসহ দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
উপসংহার:
নিতাইগঞ্জের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাট এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘটনা শুধু একটি ব্যবসায়িক সাফল্য নয়—বরং এটি যদি সত্যিই সিন্ডিকেট ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এবং কতটা কঠোরভাবে এই অভিযোগগুলোর তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত