যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রস্থলে বহুল আলোচিত একটি ইস্যু নতুন করে জনমনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে—রাজউকের জমিতে ‘পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর বহুতল ভবন নির্মাণ।
অভিযোগ উঠেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখল, মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা এবং প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এই ঘটনাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
‘পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এর বিতর্কিত এই জমি নিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে কুখ্যাত অপরাধী এবং নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমানের লোলুপ দৃস্টিতে শত শত কোটি টাকা লুটপাট করতে রাজাকারপুত্র ওসমান পরিবারের অন্যতম দোসর খালেদ হায়দার খান কাজলের মাধ্যমে পপুলার এই জমিটি দখলে নেয়। এরপর ৫ আগষ্টে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন হলে বগুড়ার রাজনৈতিক নেতাদের পদবীদের নাম ব্যবহার করে এই জমিতে বিশাল ভবন তৈরীর কাজ শুরু করে আদালত কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে । একই সাথে স্থানীয় শাসক দলে নেতাদের ম্যানেজ করার গুঞ্জনও রয়েছে নগরী জুড়ে।
মামলা চলমান, তবুও থামেনি নির্মাণ
নাগরিকদের অভিযোগ, যে জমিতে ভবন নির্মাণ হচ্ছে সেটি রাজউকের অধীন এবং এ নিয়ে ইতোমধ্যে মামলা বিচারাধীন। এমনকি বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই ভবনের কাজ থামেনি—বরং দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
প্রশ্ন উঠছে—আইনের তোয়াক্কা না করে কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান এমন স্পর্শকাতর জমিতে বহুতল ভবন গড়ে তোলে ?
‘দ্বৈত নীতি’ নিয়ে ক্ষোভ
নাগরিক সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
একদিকে সাধারণ মানুষের নলকূপের ওপর কর আরোপ ও বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশনের চাপ, অন্যদিকে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নীরবতা—এ যেন স্পষ্ট দ্বৈত নীতি।
তাদের ভাষায় :
“আমাদের রিটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ট্যাক্স চাপানো হচ্ছে, অথচ রাজউকের জমি দখল করে ভবন তুললেও কোনো ব্যবস্থা নেই!”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন
প্রবীণ আইনজীবী ও নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন প্রশাসকের দিকে—
তার কণ্ঠে ছিল কঠোর হুঁশিয়ারি:
“নাগরিকদের ওপর বোঝা চাপানোর আগে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। না হলে এই নীরবতা মেনে নেওয়া হবে না।”
আইনের শাসন না কি প্রভাবের রাজত্ব ?
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নারায়ণগঞ্জে কি আইনের শাসন কার্যকর, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা নিয়ম চলছে ?
যেখানে সাধারণ নাগরিকরা পানি সংকট, করের চাপ ও নিত্য দুর্ভোগে জর্জরিত, সেখানে অবৈধভাবে বহুতল নির্মাণের মতো গুরুতর অভিযোগে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া জনমনে চরম অসন্তোষ তৈরি করছে।
নাগরিকদের দাবি স্পষ্ট
প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে
শেষ কথা
নাগরিকদের ভাষায়,
“আইন সবার জন্য সমান না হলে, এই শহরে শৃঙ্খলা ফিরবে না।”
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বহুতল ভবন ইস্যু এখন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নয়—এটি হয়ে উঠেছে প্রশাসনের জবাবদিহিতা, আইনের প্রয়োগ এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার বড় এক পরীক্ষার নাম।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত