যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ চাঁদাবাজির মহোৎসব। প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই বিশনন্দি ফেরিঘাটে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
আর এ অনিয়মের চিত্র প্রকাশ্যে আনতে গিয়ে এবার হুমকির মুখে পড়েছেন সাংবাদিকরা—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশনন্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজী মাসুদের নেতৃত্বে একটি চক্র ফেরিঘাটের সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি সিএনজি থেকে সিরিয়ালপ্রতি ৩০ টাকা এবং ঢাকা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা সিএনজিগুলো থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
প্রতিদিন ৪-৫ জন লোক এ কাজে নিয়োজিত থেকে শত শত গাড়ি থেকে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন জোর করে টাকা নেয়। না দিলে গালাগালি, এমনকি মারধরের হুমকিও দেয়। আমরা যেন জিম্মি হয়ে আছি।”
অথচ এর আগে সংসদ নির্বাচনের সময় আড়াইহাজার-২ আসনের এমপি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম আজাদ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধেও পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু তার সেই ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফেরিঘাটে আবারও দাপটের সঙ্গে চাঁদাবাজি চলছে—যা স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গাজী মাসুদ দাবি করেছেন, “অনুমতি নিয়েই টাকা তোলা হচ্ছে।”
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ফেরিঘাটে ইজারা বা চাঁদা আদায়ের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তার এই বক্তব্যেই প্রমাণিত হয়—চাঁদাবাজি পুরোপুরি অবৈধ এবং প্রশাসনের অজান্তে বা অগ্রাহ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই চাঁদাবাজির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মোবাইল ফোন থেকে কল করে বলা হয়েছে, “টাকা উঠাতে কোনো বাধাই আমাদের থামাতে পারবে না”—যা শুধু দম্ভই নয়, আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।
প্রশ্ন উঠেছে—আড়াইহাজারে কি তাহলে চাঁদাবাজদেরই রাজত্ব চলছে ? প্রশাসনের চোখের সামনে এমন প্রকাশ্য অনিয়ম চললেও কেন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না ?
সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া মানে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা, যা গণতান্ত্রিক সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, আড়াইহাজারে আইনের শাসন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যাবে।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত