যুগের নারায়ণগঞ্জ:
কথায় আছে—“লাখে লাখে সৈন্য মরে কাতারে কাতার, গুনিয়া বাঁছিয়া দেখি সাড়ে তিন হাজার”।
অর্থাৎ কাগজে-কলমে বিশাল সাফল্যের গল্প, বাস্তবে শূন্যতা।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের গ্যাস চুরির চিত্র যেন এই প্রবাদটির জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
প্রতিনিয়ত তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হচ্ছে—হাজার হাজার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
সর্বশেষ ১১ মে-ও ২১০০ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে।
অভিযানের পরদিনই আবার জ্বলে ওঠে চুল্লি, আবার শুরু হয় গ্যাস চুরি—যেন সবই ছিল লোক দেখানো আয়োজন।
গ্যাস চুরির ‘সাম্রাজ্য’, প্রশাসন নীরব !
সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায়—বিশেষ করে দত্তপাড়া, দৌলোরবাগসহ পৌরসভার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে—অবৈধ গ্যাস সংযোগে গড়ে উঠেছে চুনা কারখানার ভয়ংকর জাল। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন অন্তত পাঁচ লাখ টাকার গ্যাস চুরি করে এক বিএনপি নেতা তার কারখানা সচল রাখছেন। থানার কাছেই প্রকাশ্যে চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম—তবুও প্রশাসনের চোখে পড়ে না!
স্থানীয়দের ভাষায়, “এখানে আইন নেই, আছে শুধু প্রভাব। প্রতিবাদ করলেই হুমকি—কখনো হামলাও হয়।”
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দৌরাত্ম্য
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া এত বড় গ্যাস চুরি ও কারখানার বিস্তার সম্ভব নয়। তার ইশারাতেই পরিত্যক্ত জমি, এমনকি মসজিদের পাশের জায়গাও দখল করে গড়ে উঠছে এসব চুনা কারখানা।
থানার পাশেই প্রকাশ্যে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ নিয়ে দিনের পর দিন চলছে চুনা কারখানা। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার গ্যাস পুড়িয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এক ধরনের ‘গ্যাস ডাকাতির সাম্রাজ্য’। এতে শুধু রাষ্ট্রীয় রাজস্বই ধ্বংস হচ্ছে না—কারখানার আগুন ও ধোঁয়ায় ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, ঝুঁকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য।
দত্তপাড়া, দৌলোরবাগসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসব চুনা কারখানা এখন স্থানীয়দের জন্য এক অভিশাপ। ইউনুসের পরিত্যক্ত জমি, মসজিদের পাশের জায়গা—কোনো স্থানই রক্ষা পায়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির নেতার ইশারা ছাড়া এসব কারখানা স্থাপন সম্ভব নয়। তার রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেই চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড।
স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা যেন জিম্মি হয়ে গেছি। প্রতিবাদ করলেই হুমকি আসে, অনেক সময় হামলার শিকারও হতে হয়। প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার মেলে না। থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসক যেখানে জিম্মি সেখানে মহা দূর্ণীতিবাজ তিতাস গ্যাস চক্রের অপরাধীরা টু শব্দ; করারও সাহস করে না এই গ্যাস চোর চক্রের নেতাদের বিরুদ্ধে।”
ফলে প্রশ্ন উঠছে—আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি ক্ষমতাধরদের জন্য আলাদা নিয়ম ?
পরিবেশ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে সোনারগাঁ
এই অবৈধ কারখানাগুলোর আগুন ও ধোঁয়ায় সোনারগাঁ আজ দমবন্ধ পরিস্থিতির মধ্যে। একসময় সবুজে ঘেরা এই জনপদ এখন দূষণের কালো ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সোনারগাঁ খুব দ্রুত একটি বসবাস-অযোগ্য অঞ্চলে পরিণত হবে।
‘নাটকীয় অভিযান’—বাস্তবতা শূন্য
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তিতাস গ্যাসের একাধিক অভিযান হলেও ফলাফল শূন্যের কোটায়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, ভাট্টি ভাঙা হয়—কিন্তু কিছুদিন পরই আবার সব আগের মতো চালু হয়ে যায়।
স্থানীয়দের কটাক্ষ, “অভিযান আসে, ছবি তোলে, চলে যায়—গ্যাস চুরি থেকে যায়।”
চরম উদ্বেগে সাধারণ মানুষ
সোনারগাঁবাসী আজ কার্যত জিম্মি। একদিকে গ্যাস চুরির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাট, অন্যদিকে পরিবেশ ধ্বংস—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি।
তাদের একটাই দাবি—
👉 গ্যাস চুরির মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেফতার
👉 রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত অভিযান
👉 দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
নচেৎ “লাখে লাখে সৈন্য মরে…” প্রবাদটি শুধু কথার কথা থাকবে না—এটি হয়ে উঠবে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নির্মম প্রতীক, আর সোনারগাঁ ধাবিত হবে এক অনিবার্য বিপর্যয়ের দিকে।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত