যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নির্বাচন ছাড়াই জেলার ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের ছাত্রছাত্রী সংসদের ২৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না কলেজটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) রায়হান কবির। এমনকি ম্যানেজিং কমিটির সভা কিংবা শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়ার নিয়মও মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ৬ মে কলেজের দাতা সদস্য ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী সংসদের কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এ কমিটিকে ‘বিতর্কিত’ উল্লেখ করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে কলেজের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, “আমাকে এ বিষয়ে আগে জানানো হয়নি। ম্যানেজিং কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গেও কোনো আলোচনা করা হয়নি। কারা এই কাজটি করেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, “আমি নিজেও ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য। কিন্তু আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী এমন কমিটি গঠনের আগে বোর্ড সভা হওয়া উচিত ছিল, যা হয়নি।”
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও এ কমিটির বিরোধিতা করা হচ্ছে। তৌহিদুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “নির্বাচন ছাড়া ছাত্রছাত্রী সংসদ গঠন গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। আমরা আশা করেছিলাম একটি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে কলেজের সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। কিন্তু অগণতান্ত্রিকভাবে কমিটি করা হয়েছে। আমরা এই কমিটি বাতিল এবং দ্রুত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রভাব খাটিয়ে নিজের ঘনিষ্ঠদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটির সহসভাপতি (ভিপি) সাদ্দাম হোসেনের ছাত্রত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুন্নাহার তিন্নির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাদ্দামের ছাত্রত্ব নেই দাবি এবং তিন্নির সঙ্গে বিগত সময়ে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। কিন্তু বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে নির্বাচন ছাড়াই তারা কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন বলেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি বলেন, “এটি সাময়িক কমিটি। যাকে ভিপি করা হয়েছে, সে আমার লোক নয়। সে তো সাখাওয়াত হোসেনের (নাসিক প্রশাসক ও আইনজীবী) সঙ্গে কোর্টে প্র্যাক্টিস করে। তার ছাত্রত্ব নিয়েও যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। কয়েক মাসের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া হবে। যারা অভিযোগ করছেন, তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন।”
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া এবং সহসভাপতি (ভিপি) সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
এমনকি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির অপর সদস্য নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও কল রিসিভ করেননি। ফলে, তাদের বক্তব্য যুক্ত করা যায়নি।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত