যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ৫-ই আগষ্টের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর সদরের পাঁচটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে গেলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে পল্টিবাজ খ্যাত কুতুবপুর ও আলীরটেক ইউনিয়নের এই দুই চেয়ারম্যান এখনো বহাল তবিয়তে নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন।
অপরদিকে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চেয়ারম্যানের চেয়ার দখল করা বাকি ৫ ইউপির চেয়ারম্যানরা পলাতক থাকায় উক্ত ইউপি গুলোর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব প্রদান নিয়েও স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
অভিযোগ উঠেছে, এ ৫-ইউপিতে বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা বিশেষ সুবিধা গ্রহন করার মাধ্যমে অযোগ্যদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আসনে বসিয়েছেন!
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু এবং আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন এক সময় বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তবে গত নির্বাচনে তারা আওয়ামী দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী হউন। সে সময়ে এ দুই প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আওয়ামী রাজনীতি এবং এমপিদের প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে থাকেন। এমনকি, আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে যোগদানের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের বিএনপিকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত মন্তব্যও করতে দেখা গেছে। ৫-ই আগষ্টের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করার পর পরই ছাত্র হত্যা মামলাসহ বৈষম্যবিরোধী একাধিক মামলার আসামি বনে যান তারা। একটা পর্যায়ে ত্রয়োদশ নির্বাচনকে পুঁজি করে নিজের বহিষ্কারদেশ বাতিল করাতে সক্ষম হউন পল্টিবাজ হিসেবে খ্যাত সেন্টু চেয়ারম্যান তবে পূর্বের অবস্থানেই রয়ে যায় ঘি জাকির!
এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত একাধিক মামলার আসামি সেন্টু এবং ঘি জাকির থাকলেও আওয়ামী শাসনামলের মতই বর্তমানেও রয়েছেন তারা বহাল তরিয়তে! মামলায় ফেরারী আসামি হলেও বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এলাকায়! এমনকি, স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিতে দেখা গেছে সেন্টু চেয়ারম্যান এবং ঘি জাকিরকে!
এদিকে, বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতারা আক্ষেপের সাথে বলেন, ঘনিয়ে এসেছে স্থানীয় নির্বাচন। বিগত সময়ে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ নির্বাচিত হতে পারেনি। রাতের ভোটে এমপি নির্বাচনের মতই ইউপি নির্বাচনেও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা। আর সেই রাতের ভোটের চেয়ারম্যান ছিল সদরের ৭ টি ইউপির চেয়ারম্যান। বর্তমানে স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ত্যাগীরা যখন চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ঠিক সে মুহুর্তেই বহুরূপীরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছেন। দলের হাইকমান্ড এ বিষয়গুলোতে নজর দিবেন এবং দলের দুঃসময়ের নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা ত্যাগীদের।
অপরদিকে, ছাত্র জনতা হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী চেয়ারম্যান সেন্টু এবং ঘি জাকিরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার করও তাদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এনসিপি নেতৃবৃন্দ। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আল আমিনের মুখপাত্র এনসিপি নেতা আলিফ দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, একাধিক মামলার আসামি সেন্টু এবং ঘি জাকিরের প্রকাশ্যে ঘুরাফেরাটা পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সেন্টু আর জাকির চেয়ারম্যান ছিলেন প্রকাশ্য আওয়ামীলীগের দোসর। তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে জেলা প্রশাসন তাদের নিরপেক্ষতার প্রমান দিবেন এমনটাই প্রত্যাশা করি।
অপরদিকে, কাঁশিপুর, বক্তাবলী, এনায়েতনগর, গোগনগর ও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে যারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন, তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলেও জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, এ ইউনিয়ন গুলোর মূল চেয়ারম্যানরা অনুপস্থিত থাকায় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যানদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করেন। করা হয়েছে। আর এই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগের পেছনেও বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের গুঞ্জন শোনা গেলেও এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, সদরের ৭টি ইউনিয়নের প্রত্যেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই বিগত আওয়ামী সরকারের আর্শীবাদপুষ্ট ছিলেন।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত