যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ঘাট যেন এখন অবাধ লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
সরকারি ইজারার টাকা পরিশোধ না করেই বছরের পর বছর পার করে দিচ্ছে ইজারাদাররা, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। আরও বিস্ময়কর বিষয়—নতুন ইজারার দরপত্রের ঠিক আগমুহূর্তেও এই অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টানা হয়নি।
মাছুয়াবাজার কালেকশন রাইট, টানবাজার ঘাট ও কেরোসিন ঘাট—এই তিনটি ঘাটের ইজারা আগামী ২৮ এপ্রিল পুনরায় দেওয়ার কথা রয়েছে। অথচ বর্তমান ইজারাদারদের বকেয়া পরিশোধ না করেই নতুন প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মাছুয়াবাজার ও টানবাজার ঘাটের ইজারা পান ঢাকার কদমতলীর বাসিন্দা শিবলী মাহমুদ।
প্রায় দুই কোটি ২৬ লাখ টাকার ইজারার মধ্যে প্রথম কিস্তি পরিশোধ করলেও দ্বিতীয় কিস্তির বিপুল অঙ্কের টাকা নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো পরিশোধ করেননি তিনি।
একই চিত্র কেরোসিন ঘাটের ইজারাদার কামাল হোসেনের ক্ষেত্রেও—বকেয়া রেখেই চলছে কার্যক্রম।
শুধু ইজারার টাকা বকেয়া রাখাই নয়, এই ইজারাদারদের বিরুদ্ধে রয়েছে ভয়ংকর অভিযোগ—সরকার নির্ধারিত টোলের তিনগুণ পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে প্রকাশ্যে।
চাল আড়তদার ও মিল মালিকদের অভিযোগ, গমবাহী নৌকা থেকে যেখানে ১৫০ টাকা টোল নেওয়ার কথা, সেখানে আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা। একইভাবে প্রতি কুইন্টালে নির্ধারিত ৩ টাকা ৪৫ পয়সার জায়গায় নেওয়া হচ্ছে ৭ টাকা।
এমনকি কম ওজনের পণ্যেও একই হারে টোল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এতে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও মাঝিরা প্রতিবাদ করলে নেমে আসে ভয়ভীতি ও সহিংসতার হুমকি।
অভিযোগ রয়েছে, ইজারাদারদের লোকজন প্রকাশ্যে মারধরের চেষ্টা করে এবং অনেক ক্ষেত্রে নৌকা ঘাটে ভিড়তে পর্যন্ত বাধা দেয়।
এমনকি একরামপুর ফেরিঘাটেও দ্বিগুণ টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। বিষয়টি লিখিতভাবে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—যা প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ইজারাদারদের পক্ষ থেকে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
শিবলী মাহমুদ দাবি করেন, নদী খনন ও জেটি সুবিধা না থাকায় আয় কম হওয়ায় তিনি টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়টি তিনি ‘নিয়মের মধ্যেই’ বলে দাবি করেন—যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।
অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ পোর্টের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য আরও হতাশাজনক।
তিনি বলেন, “সামান্য কিছু টাকা বাকি আছে” এবং অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে তার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি—যা মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিশ্লেষণ :
ঘাট ইজারাকে কেন্দ্র করে এমন প্রকাশ্য অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই করছে না, বরং পুরো নৌপথ ব্যবস্থাপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বকেয়া আদায়, অতিরিক্ত টোল বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই ‘ঘাট সিন্ডিকেট’ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে—এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত