যুগের নারায়ণগঞ্জ:
জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে ১০ হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ৫ মে দিন ঠিক করা হয়েছে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দুই সদস্যের বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেয়। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সব আসামি পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনাল থেকে তাদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য রাষ্ট্র আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে।
এদিন আসামিদের অব্যাহতির আবেদনের ওপর শুনানি করেন আইনজীবী মো. আলী হায়দার, শেখ মুস্তাভী হাসান ও আমির হোসেন।
শুনানিতে আসামির আইনজীবীরা বলেন, কেবল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই শামীম ওসমানসহ ১২ জনকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। প্রসিকিউশন তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি, তাই তাদের অব্যাহতি দেওয়া হোক।
রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীর আবেদনের বিরোধিতা করে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনালে কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামিম বলেন, “শামীম ওসমানসহ চারজনের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আলী হায়দার তার ডিসচার্জ আবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কথিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ফরমাল চার্জের বাইরে গিয়েও নানা বিষয় টেনে এনেছেন। তাই এ আবেদন নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে।”
গত ১৯ এপ্রিল এই মামলায় পলাতক ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন। সেদিন কৌঁসুলি আবদুস সাত্তার পালোয়ান আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন।
প্রসিকিউশনের আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় মোট ১০ জনকে হত্যার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই চাষাড়া, ফতুল্লার সাইনবোর্ড ও এর আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল এবং ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ মোট ছয়জনকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে ২১ জুলাই ফতুল্লার ভূঁইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগে ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।
এসব অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে ১৮টি ভিডিও ক্লিপ, অডিও, প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার দালিলিক নথি এবং ৬১ জন চাক্ষুষ সাক্ষীর তালিকা জমা দিয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। অন্য আসামিরা হলেন —তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন (অয়ন ওসমান), ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।
গত ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এরপরই ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়ে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সবশেষ গত ৪ মার্চ এই ১২ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে দুটি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত