যুগের নারায়ণগঞ্জ:
রাজধানীতে -এর কেন্দ্রীয় আমেলা (নির্বাহী পরিষদ) সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ও অনাস্থা উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের রিসোর্সফুল টাওয়ারের ১০ম তলায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক -এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বিশেষভাবে আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কেন্দ্রীয় মহাসচিব বিষয়টি উপস্থাপন করেন।
আলোচনার একপর্যায়ে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান অভিযোগ করেন যে, -এর কারণে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না এবং জেলা পর্যায়ে সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতি জানান, জেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অনাস্থা ও অভিযোগ ইতোমধ্যে জমা হয়েছে। এতে মাওলানা ফেরদাউসের বক্তব্যের ভিত্তি নেই বলে উল্লেখ করা হয়। এ মন্তব্যের পর তিনি নীরব হয়ে যান।
পরে বক্তব্য রাখেন জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক । তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে র্যাব-১১ এর একটি অভিযানে অর্থের বিনিময়ে তথ্য দিয়ে মুফতী মনির হোসাইন কাসেমীসহ অর্ধশত আলেমকে গ্রেফতারে সহযোগিতা করেছিলেন মাওলানা ফেরদাউস। এছাড়া আরও কয়েকজন আলেমকে বিভিন্ন সময় গ্রেফতারে ভূমিকা রাখার অভিযোগও তোলেন তিনি।
মাওলানা হারুন আরও দাবি করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্থের বিনিময়ে পোলিং এজেন্ট স্লিপ বিক্রি এবং সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিরোধী প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন মাওলানা ফেরদাউস। এমনকি নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করার মন্তব্যও করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসব অভিযোগ উপস্থাপনের সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মুফতী মনির হোসাইন কাসেমীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অভিযোগ চলাকালে মাওলানা ফেরদাউসকে নীরব ও মাথা নিচু করে থাকতে দেখা যায় বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব -কে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং সহকারী মহাসচিব -কে। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে (৪ মে ২০২৬) প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় এক নেতা অভিযোগ করেন, সভায় মাওলানা ফেরদাউস নিয়মবহির্ভূতভাবে কিছু অ-সদস্যকে নিয়ে আসেন এবং বাইরে থেকে লোকজনও উপস্থিত করেন, যা সংগঠনের নিয়মের পরিপন্থী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা মঞ্জুর ইসলাম আফেন্দি। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত