যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
সংগঠনটির জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আমেলা পরিষদের সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ৭০ জন দায়িত্বশীল নেতার স্বাক্ষরে উত্থাপিত এই অনাস্থা প্রস্তাব কেবল ব্যক্তি নয়, বরং পুরো সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংকটকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
অনাস্থা প্রস্তাবে অভিযোগ করা হয়েছে, ফেরদাউসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে দলীয় গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে সংগঠন পরিচালনা করছেন। জেলা আমেলা কমিটির সঙ্গে পরামর্শ না করেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি এবং ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে করে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে বলে মনে করছেন নেতারা।
আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উঠে এসেছে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর বিষয়টি।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে আদর্শবিরোধী সমঝোতা ও আর্থিক লেনদেনেও তিনি জড়িত ছিলেন। এমনকি নির্বাচনকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলীয় অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
এছাড়া তার ব্যক্তিগত আচরণ ও নৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেতাকর্মীরা।
বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের উল্লেখ করে নেতারা দাবি করেছেন—এই ধরনের কর্মকাণ্ড সংগঠনের মর্যাদাকে জনসমক্ষে হেয় করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির যে ঐতিহ্য ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল, তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একসময় আলেম সমাজ সম্মানের প্রতীক হলেও এখন কিছু নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সেই অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সংগঠনের ভেতরে বিভক্তিও এখন স্পষ্ট।
একদিকে ফেরদাউসুর রহমানের অনুসারীরা, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ দিয়ে দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সন্তোষজনক জবাব না মিললে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফতুল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রতিরোধের মুখে পড়ছেন ফেরদাউসুর রহমান—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
ফলে তিনি এখন বিকল্প এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবমিলিয়ে, এই অনাস্থা প্রস্তাব শুধু একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নয়—এটি নারায়ণগঞ্জে জমিয়তের নেতৃত্ব, আদর্শ ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
সংগঠনটি এখন কোন পথে এগোবে, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ সংকট সমাধানের সক্ষমতার ওপর।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত