
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত শুভ হত্যা মামলায় একের পর এক আসামি গ্রেফতার হলেও মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ নতুন করে ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে চাষাড়ায় তার শোডাউনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পুরো নগরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, রানা প্রকাশ্যে অবস্থান করছেন এবং তার উপস্থিতি ঘিরে একটি শক্তিশালী অবস্থান জানানোর ইঙ্গিত মিলছে—যা অনেকের কাছে আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
“গ্রেফতার অন্যরা, প্রকাশ্যে মূল আসামি !”
শুভ হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে একাধিক এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে যাকে ‘মূল আসামি’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, তার এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “একদিকে পুলিশ বলছে অভিযান চলছে, অন্যদিকে প্রধান আসামি প্রকাশ্যে শোডাউন দিচ্ছে—এটা কীভাবে সম্ভব ?”
অর্থের প্রভাবের অভিযোগ, তবে প্রমাণ অমীমাংসিত
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে নানা গুঞ্জন। সামাজিক ও স্থানীয় মহলের একাংশ দাবি করছে—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশকে এক কোটি টাকা দিয়ে এবং নিহতের পরিবারের ওপর প্রভাব খাটিয়ে শুভ এর পরিবার কে ৫০ লাখ টাকায় ম্যানেজ করে এই শোডাউন সম্ভব হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন
ঘটনাটি শুধু একটি মামলার সীমাবদ্ধতায় আটকে নেই—এটি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং প্রভাবশালীদের জবাবদিহিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “যদি কোনো হত্যা মামলার প্রধান আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার কতটা নিশ্চিত—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে।”
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সব আসামিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় এখন নজর সবার—আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে, নাকি প্রভাবের কাছে নতজানু হয়ে পড়বে বিচারব্যবস্থা ?