
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অনুমোদনহীন ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (৮ এপ্রিল) উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাইন খালপাড় এলাকায় ‘মোয়াজ ফুড প্রোডাক্টস’ নামের একটি কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে র্যাব-১১ ও জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অভিযানকালে কারখানায় ১ হাজার ২০০ লিটার ভোজ্যতেল মজুদ অবস্থায় পাওয়া যায়। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ লিটার তেল বোতলজাত করা হচ্ছিল। বোতলগুলোর গায়ে ‘তির সয়াবিন’ (২ লিটার ও হাফ লিটার) এবং ‘সিটি ফর্টিফায়েড সয়াবিন’ (৫ লিটার) নামে নকল লেবেল ব্যবহার করা হচ্ছিল।
অভিযুক্ত কারখানার মালিক মো. মঈন ভূঁইয়াকে নিরাপদ খাদ্য আইন ৩৯ ধারায় নিবন্ধন না থাকার অপরাধে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অবৈধভাবে কোনো পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজা জানান, খাদ্যপণ্য উৎপাদনের জন্য বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কারখানাটির কোনো ধরনের অনুমোদন পাওয়া যায়নি এবং মালিকও তার দোষ স্বীকার করেছেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জ জেলার কর্মকর্তা সুরাইয়া সাইদুন নাহার জানান, ড্রাম থেকে তেল এনে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই বোতল ও মোড়কজাত করা হচ্ছিল। পরিবেশও ছিল অস্বাস্থ্যকর। তেল ক্রয়ের কোনো বৈধ রশিদও দেখাতে পারেননি মালিক। তেলের মান ও এতে ভেজাল রয়েছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হবে।
র্যাব-১১ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. আল মাসুদ খান বলেন, অবৈধভাবে তেল মজুদ করে নকল লেবেল লাগিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রির অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কারখানার মালিক মো. মঈন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, তিনি ডিলারদের কাছ থেকে তেল কিনে স্থানীয় বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করতেন। প্রতি ড্রামে ২০০ লিটার তেল ৩২ হাজার টাকায় কেনা হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।