যুগের নারায়ণগঞ্জ:
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, “শেখ মুজিব চাটার দলকে চিনতেন কিন্তু ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) বিএনপিকে যদি বাঁচাতে চান, চাটার দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দেখে না দেখার ভান যদি করেন, আপনি বাঁচতে পারবেন না, বিএনপি বাঁচবে না। আমাদের জনগণের দুর্ভোগ তৈরি হবে।”
বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চাষাঢ়া শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আলোকপ্রজ্জলন কর্মসূচীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে তিনি বলেন, “১৯৭৪ সালে আমাদের দেশে সাত কোটি কম্বল এসেছিল। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সাত কোটি কম্বল এলো, আমার কম্বল গেল কই। চাটার দল সব চেটে খেয়ে ফেলে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যেই সমাবেশে কথাগুলো শেখ মুজিব বলছিলেন, তার পেছনেই দাঁড়ানো ছিল কম্বল চুরির অভিযুক্ত ব্যক্তি। শেখ মুজিব চাটার দলকে জানতেন কিন্তু বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তার পরিণতি সারাবিশ্বের মানুষ দেখেছে। আজকে যে মন্ত্রীরা তালিকা করার কথা বলছেন আপনার দলে চাটার লোক কে কে আপনারা ভালো করে জানেন। তাদের মাথা থেকে হাত সরান, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এই চাঁদাবাজ-চাটার দল কোন সময় আপনার দলের জন্য মঙ্গল আনতে পারে না, দলের জন্য ক্ষতিকর।”
রফিউর রাব্বি বলেন, “আজ যারা বিএনপির এমপি, সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক হয়েছেন, বিভিন্ন কথা বলছেন, চাঁদা বন্ধ করবেন। এখান থেকে আপনাদের দলের ছিচকে নেতাকর্মীরা চাঁদা খায়। তারা বলতে চায়, শেখ হাসিনার সময় ১৫-১৬ বছর লুটপাট করে খেয়েছে, এখন আমাদের সময় আমরা চাঁদা তুলে লুটপাট করে খাবো।”
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার দুঃশাসনের সময় কারা আন্দোলন গড়ে তুলেছে, রাজপথে ছিল আমরা জানি। বিএনপির কারা কারা ওসমান পরিবারের সাথে আঁতাত করে, মিলেমিশে নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছিল তাদের তালিকাও আমরা জানি।”
রফিউর রাব্বি বলেন, “বিএনপির মন্ত্রী চাঁদাবাজদের তালিকা করতে বলেন কিন্তু আপনার দলের নেতাদের কাছেও আছে। সরকারী দল ছাড়া কখনো কেউ চাঁদাবাজি করতে পারে না। আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী লীগ, আজকে বিএনপি ক্ষমতায় এসছে বিএনপি। আপনারা হকারদের বিরুদ্ধে বলে জনগণের চলাচলের পথ প্রশস্ত করবেন। চাঁদাবাজি বন্ধ করেন। ৫৫ বছর তো হলো স্বাধীনতার, আর কত আপনাদের চাঁদা দিতে হবে? আমরা চাঁদাবাজ টিকিয়ে রাখার জন্য সরকার বদল করি না। অভ্যুত্থানে ২ হাজার জীবন আপনাদের চাঁদাবাজদের লুটপাটের মহোৎসব করার জন্য দেয় নাই। নির্লজ্জের মতন আপনারা সেখানে চাঁদাবাজি করেন আর আপনারা বলেন, গান্ধী পোকা। গান্ধী পোকা বলে আপনারা পার পেয়ে যেতে চান।”
নারায়ণগঞ্জে নতুন গডফাদার তৈরি হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সময়ে ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জে মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। আজকে আমরা ঠিক একইভাবে নতুন নতুন গডফাদার তৈরি হওয়ার একটা প্রক্রিয়া দেখতে পাচ্ছি। মাফিয়াতন্ত্র গড়ে ওঠার আলামত দেখতে পাচ্ছি। পরিবহন খাত, বাজার-ঘাট থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই নতুন গডফাদারদের চাঁদার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল। শেখ হাসিনার পরিণতি বিশ্ববাসী দেখেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেড় বছর সময়ের মধ্যে এই বিচারটি সম্পন্ন করতে পারে নাই। বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে দেড় মাস। আমরা তাদেরকে গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবেই এখনো আমরা বলতে চাই। ১৩ বছরে একটি বিচার হবে না, এটি হতে পারে না। নারায়ণগঞ্জ ওসমানদের দ্বারা অসংখ্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আজমেরী ওসমান নিজেই ২০টির উপরে হত্যা করেছে। এসবের বিচার করেন। ওসমান পরিবারের ভাড়াটে মাফিয়া চক্রের সাথে যারা টাকার লেনদেনে যুক্ত ছিল এরা অধিকাংশই বিএনপির দলের ক্যাডারদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে নারায়ণগঞ্জে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের দায়িত্ব জনগণের পক্ষে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সরকারের দলের গডফাদার, ছিচকে নেতাদের স্বার্থ রক্ষা করা না। যারা বিগত শেখ হাসিনার শাসনামলে তা করেছে তাদের পরিণতি আপনারা দেখেন। ইউনিফর্ম পরিবর্তন করলেই বদল হয়ে যাবে না, স্বভাব বদলাতে হবে।”
সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রশাসনকে জনগণের হয়ে কাজ করার সুযোগ দেন। দলের তাবেদার বানাতে যাইয়েন না। এটি ভালো হয় না। খুব বেশিদিন না, দেড় বছর হয়েছে বুমেরাং হয়ে কিন্তু ফিরে আসবে। আপনারা সেই পথে যাবেন না। গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবেই আমরা আপনাদের মনে করছি। সেভাবেই দেখতে চাই। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ আলাদা করার যেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, সংস্কার প্রস্তাব হয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করেন। জনগণের সরকার, শাসক প্রতিষ্ঠার জন্য, রাষ্ট্রকে জনবান্ধব করার জন্য যেই যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে সেই পথে হাটেন।”
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিল সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, খেলাঘর আসরের কেন্দ্রীয় নেতা রথিন চক্রবর্তী, সিপিবির সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস প্রমুখ।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত