যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যেন আইনের শাসন নয়, বরং একটি চক্রের দৌরাত্ম্যই এখন বাস্তবতা।
পুলিশের হাতে একাধিকবার ধরা পড়ে মারধরের শিকার হওয়ার পরও থামেনি কুখ্যাত অপরাধী বরিশাইল্লা শহীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড।
উল্টো দিন দিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে তার সন্ত্রাসী তৎপরতা।
সর্বশেষ, এই চক্রের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক মোঃ নুরুল ইসলাম নুরু (৭২)।
দীর্ঘ ৩০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞ এই ব্যক্তি, যিনি বর্তমানে ফতুল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন—তাকেই প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র।
ফতুল্লা থানা গেট সংলগ্ন এলাকায় শহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তথাকথিত ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে—নারীদের উদ্দেশ্যে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য থেকে শুরু করে প্রকাশ্যেই অসামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করছে তারা।
শুধু তাই নয়, নিয়মিত সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে অফিসের সামনে অবস্থান করে ভয়ভীতি প্রদর্শন যেন তাদের নিত্যদিনের রুটিন। প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি।
গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় ঘটে আরও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, শহিদ ও তার ছেলে সজিব দলবল নিয়ে সাংবাদিক নুরুর অফিসের সামনে এসে সরাসরি হামলার চেষ্টা চালায়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্ষা না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
এলাকাবাসীর ভাষ্য আরও উদ্বেগজনক।
স্থানীয়রা বলছেন, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে রাস্তা দখল করে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, কিন্তু কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়—অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। বরং তারা প্রকাশ্যেই নিজেদের ‘আইনের ঊর্ধ্বে’ দাবি করে আগের মতোই দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে।
অতীতের অভিযোগও কম নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অতীতে মিথ্যা মামলা সাজানো, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, জিডি-অভিযোগের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া—এসব কর্মকাণ্ডের ‘অঘোষিত কেন্দ্র’ ছিল শহীদের কম্পিউটারের দোকান।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকেই গড়ে উঠেছে এই পুরো সিন্ডিকেট।
প্রশ্ন উঠেছে—ফতুল্লায় কি তবে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে? একজন প্রবীণ সাংবাদিক পর্যন্ত যদি নিরাপদ না হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় ?
এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কি এই চক্রের লাগাম টানতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, নাকি ‘অদৃশ্য শক্তির’ ছায়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে শহীদের মতো অপরাধীরা।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত