1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
নারায়ণগঞ্জে ‘গুম থেকে লাশ’— ক্রসফায়ার অতীতের ছায়ায় নতুন আতঙ্ক! - যুগের নারায়ণগঞ্জ
রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সোনারগাঁয়ে কোষ্টগার্ডের অভিযান: ৮৮ লাখ টাকার অবৈধ পলিথিন জব্দ রূপগঞ্জ থানার নতুন ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন নারায়ণগঞ্জের তিন থানার ওসি ক্লোজড! বিয়ের ফাঁদে স্কুলছাত্রী, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নির্মম নির্যাতন—সোনারগাঁওয়ে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ বাদশার মুক্তির দাবিতে বন্দরে মানববন্ধন সিদ্ধিরগঞ্জে ছাত্র ফেডারেশনের ১১ সদস্য বিশিষ্ট আঞ্চলিক কমিটি গঠন নারায়ণগঞ্জে ‘গুম থেকে লাশ’— ক্রসফায়ার অতীতের ছায়ায় নতুন আতঙ্ক! আমার এলাকায় চাঁদাবাজদের কোন স্থান নেই-এমপি আল আমিন সাংবাদিক পলাশের মায়ের মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের শোক সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ধ কারখানায় নিরাপত্তাকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে ‘গুম থেকে লাশ’— ক্রসফায়ার অতীতের ছায়ায় নতুন আতঙ্ক!

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ আবারও কেঁপে উঠেছে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে, যেখানে ‘গুম’ হয়ে যাওয়া এক তরুণের লাশ মিলেছে সেতুর নিচে।

ঘটনাটি শুধু একটি খুন নয়—এটি যেন অতীতের অন্ধকার ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি, যেখানে ক্রসফায়ার, সন্ত্রাস আর ক্ষমতার ছত্রছায়ায় অপরাধের ভয়াল সংস্কৃতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

২০০৪ সালে জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের সময় ক্রসফায়ারে নিহত কুখ্যাত অপরাধী মমিনউল্লাহ ডেভিডের নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

দুই দশক পর, তারই ভাগিনা—নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়ঙ্কর ‘গুম ও হত্যার’ অভিযোগ। শহরজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—ইতিহাস কি আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে ?

গুমের শিকার হওয়া শুভ (২১) আর জীবিত নেই।

গত ৩০ মার্চ রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশটি অবশেষে শনাক্ত হয়েছে—এটি সেই নিখোঁজ শুভরই মরদেহ। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছিল, যেন মানুষের জীবনের কোনো মূল্যই নেই।

মামলার বিবরণে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র।

গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় শুভকে। এরপর পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে মারধর করে তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

অভিযোগ রয়েছে, চাষাঢ়া রেললাইন সংলগ্ন একটি গ্যারেজে তাকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। তারপর পরিকল্পিতভাবে লাশ গুমের চেষ্টা—কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাশই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় সাক্ষী।

এই ঘটনায় নিহতের মা মাকসুদা বেগম ১ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

প্রধান আসামি করা হয়েছে এই ক্রসফায়ারে নিহত ডেভিডের ভাইগ্না সাখাওয়াত হোসেন রানাকে।

মামলায় আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—কাশেম, সাব্বির, শাকিল, পাপ্পু, আলী মিয়া, জাহিদ, আব্দুর রাজ্জাক, ওয়াসিম, লাল শুভসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।

এদের অধিকাংশই ফতুল্লার ইসদাইর বস্তি এলাকার বাসিন্দা।

ইতোমধ্যে সাব্বির, রাজ্জাক ও মহসিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিলন ফকির জানিয়েছেন, গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে প্রশ্ন একটাই—কেন এখনো এই ধরনের গুম ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে ? কারা দিচ্ছে এসব অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ?

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বরাবরই ছিল রহস্যজনক নীরবতা।

শুভর পরিবার যখন ছেলের জীবনের জন্য আকুতি জানাচ্ছিল, তখন হয়তো সে ইতোমধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল। এই নির্মম বাস্তবতা শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি পুরো সমাজের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিচ্ছবি।

নারায়ণগঞ্জ এখন উত্তাল। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই হত্যাকাণ্ড। মানুষ জানতে চায়—আইনের শাসন কি আদৌ আছে, নাকি ক্ষমতার দাপটে অপরাধীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ?

এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে—গুম ও ক্রসফায়ারের ভয়াল সংস্কৃতি কখনোই সত্যিকারের শেষ হয়নি।

এটি শুধু রূপ বদলেছে, চরিত্র বদলেছে, কিন্তু নির্মমতা রয়ে গেছে একই।

এখন সময় কঠোর পদক্ষেপের। নয়তো আজ শুভ, কাল আরেকজন—এই অন্ধকার চক্র চলতেই থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট