
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারী একটি অনুষ্টানে স্বেরাচারী দোসর দীলিপ মন্ডলের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। এই দীলিপ মন্ডলের নেতৃত্বেই সদর ও ফতুল্লায় স্বেরাচারী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার আন্দোলনে হামলা চালানোরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি, ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শুরুতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে পুলিশি হয়রানী করারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পরবর্তীতে হাসিনা সরকারের পতনের পর পরই স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও রয়েছে অভিযোগ। এমনকি, সংখ্যালঘু নেতার ট্যাগ লাগিয়ে পূর্বের ন্যায় এখনো এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বেড়াচ্ছে। আর এই দীলিপ মন্ডল হচ্ছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট সহচর।
সূত্রমতে, ১ (এপ্রিল) বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জে মন্দির ভিত্তিক শিশু বিষয়ক কার্যক্রম-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর দীলিপ মন্ডল উপস্থিত থেকে পুরষ্কার বিতরন করছেন এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের সাধারন মানুষকে বিভিন্ন নীতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
অনেকেই বলছেন, শত লাশ এবং সাধারন ছাত্রদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। এমনকি নারায়ণগঞ্জে স্বেরাচারী বিরোধী আন্দোলন চলাকালে আমরা দেখতে পেয়েছি, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান এবং তার বাহিনীর ক্যাডাররা সাধারন আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। ঐ সময় শামীম ওসমানের সশস্ত্র হামলা চলাকালে দীলিপ মন্ডলের উপস্থিতও আমরা দেখতে পেরেছি।
৫-ই আগষ্ট সাধার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোপের মুখে স্বেরাচারী হাসিনা সরাকারের প্রধান শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর পরই নারায়ণগঞ্জের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানও পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সংখ্যালঘু ট্যাগ লাগিয়ে দীলিপ মন্ডল নিজেকে সেভ করেন! এবং পূর্বের ন্যায় বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন।
এমতবস্থায় সরকারী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের পাশেই দীলিপ মন্ডলের উপস্থিতি জুলাই আন্দোলনে নিহতদের রক্তের সাথে বেঈমানি করার সামিল বলেও জেলাবাসী মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ছবি আমার চোঁখেও পড়েছে। তবে, আমার কাছে মনে হচ্ছে, জেলা প্রশাসক মহোদয় স্বেরাচারী দোসর দীলিপ মন্ডলের বিষয়ে অবগত নন। যদি অবগত হতেন তাহলে কোন ভাবেই সরকারী এমন একটি অনুষ্টানে স্বেরাচারী দোসর দীলিপ মন্ডল কখনই প্রবেশ করতে পারতেন না।
মূলত, জেলা প্রশাসকের ভাবমূতি ক্ষুন্ন করার জন্যই দীলিপ মন্ডল সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে আমার ধারনা। ডিসি মহোদয়ের উচিত অনতিবিলম্বে স্বেরাচারী দোসর দীলিপ মন্ডলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমরা অবগত নই। মন্দির ভিত্তিক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয়েছে আমার কার্যালয়ে। আর আমরা সেখানে কাউকে দাওয়াতও করিনি। যদি আওয়ামী কোন দোসর অনুষ্ঠানে হয়ে থাকে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। তবে, কিভাবে আওয়ামী দোসর এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলো সে বিষয়ে আমি এখনি খোঁজ নিচ্ছি।
তবে, আমাদের অনুষ্ঠানকে আওয়ামী কোন দোসর যদি বিতর্কিত করার মত অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন তাহলে আমরা হার্ডলী পদক্ষেপ নিব। আমি এখনি দীলিপ মন্ডলের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। দীলিপ মন্ডলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিগ্যালি সবকিছুই করা হবে।