
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ১১ বছরের নিষ্পাপ শিশু আরাফাত হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় অবশেষে বিচারিক রায়ে চরম বার্তা দিল আদালত। মানবিকতার সব সীমা ভেঙে দেওয়া এই জঘন্য অপরাধে মো. রিপন (৩২) নামের ওই যুবককে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন।
তবে রায় ঘোষণার সময় আসামির অনুপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—আইনের কঠোরতা সত্ত্বেও অপরাধীরা কীভাবে পালানোর সুযোগ পায় ?
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে টার্গেট করে রিপন। প্রথমে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দিয়ে অমানবিকভাবে আঘাত করে, এরপর গলাটিপে হত্যা করে। এতেও তার নৃশংসতা থামেনি—লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মসজিদের পুকুরে ফেলে দেয়।
ঘটনাকে আরও বিভ্রান্ত করতে খুনির ভূমিকায় থেকেও সে নিজেই পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ‘খোঁজাখুঁজি’র নাটক সাজায়—যা এক ধরনের ভয়ঙ্কর মানসিক বিকৃতিরই প্রমাণ।
তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর, পুকুরে ভেসে ওঠে আরাফাতের নিথর দেহ—যা পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটায়।
মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও প্রতিশোধপরায়ণতা থেকেই শিশুটিকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়।
একটি ছিনতাই মামলায় আরাফাতের বড় ভাই সাক্ষ্য দিয়েছিল এবং পারিবারিক বিরোধে রিপনের অসন্তোষ জমে ছিল।
সেই ঘৃণ্য প্রতিশোধ নিতে সে নিষ্পাপ শিশুকে বেছে নেয়—যা শুধু একটি খুন নয়, বরং সমাজের জন্য এক ভয়াবহ বার্তা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, আদালত সব প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করেই এই রায় দিয়েছেন। এই রায় শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়—এটি সমাজে নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা।
এই হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করল—ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও বিকৃত মানসিকতা যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তখন সবচেয়ে নিরাপদ মনে হওয়া শিশুরাও হয়ে ওঠে সবচেয়ে সহজ শিকার।
আইন তার সর্বোচ্চ শাস্তি দিলেও প্রশ্ন থেকে যায়—এমন বর্বরতা ঠেকাতে সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার আরও কতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন ?