যুগের নারায়ণগঞ্জ:
দীলিপ কুমার মন্ডল, ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সে সাথে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট সহচর। ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সাংসদ হিসেবে শামীম ওসমান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। সে সময়ে শ্রী শ্রী রাধা গৌবিন্দ জিউর বিগ্রহ মন্দির কমিটির সভাপতি বনে যান এই কুলাঙ্গার দীলিপ এবং তার আনুগত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠন করা হয় উক্ত মন্দির কমিটি। এর কিছুদিন পরেই পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা স্বত্ত্বেও ওসমান পরিবারের আর্শিবাদে একটি জাতীয় দৈনিকের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যান তিনি। একদিকে সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট সহচর অন্যদিকে জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক পরিচয়ে দিনের পর দিন হিংস্র এবং বেপরোয়া হয়ে উঠেন দীলিপ মন্ডল।
এলাকায় চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং, সাধারন মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী, মন্দিরের অর্থ আত্মসাত, মন্দিরের অর্পিত সম্পত্তির প্লট বিক্রিসহ বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে শীষমহল এলাকার অঘোষিত গডফাদার বনে যান তিনি। এই দীলিপ মন্ডলের সিদ্ধান্তই ছিল শীষমহল বাসীর জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত! হউক সেটা ন্যায় সঙ্গত কিংবা অন্যায়! আর তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেই নেমে আসতো নির্যাতনের খড়গ!
এমনকি, সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজন হওয়ার সুবাধে পুরো এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রন চলে আসে এই দীলিপ মন্ডলের হাতের মুঠোয়৷ শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরের জমি প্লট আকারে বিক্রি এবং মন্দির উন্নয়নের অর্থ আত্নসাত, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে মন্দির উন্নয়নের নামে চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্মের হোতা ছিল আওয়ামীলীগ নেতা দীলিপ মন্ডল। বিগত স্বেরাচার সরকারের আমলে এই মন্দিরের নাম ভাঙ্গিয়ে সরকারী অনুদান, চাঁদাবাজি, প্লট বিক্রির অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি।
এমনকি, নারায়ণগঞ্জ এবং মুন্সিগঞ্জে রয়েছে তার একাধিক প্লট! আর ঐ সময়ে দীলিপ মন্ডলের এহেন অপকর্মের প্রতিবাদ যারাই করেছেন তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে একের পর এক মিথ্যা মামলার খড়গ! অবশেষে, দীর্ঘ ১৮ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান ঘটলেও বহাল তরিয়তে রয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা দীলিপ মন্ডল। ৫-ই আগষ্টের পর কিছু দিন নীরব থাকলেও স্থানীয় কিছু আওয়ামী ঘেষা নামধারী বিএনপির শেল্টারে পূনরায় আবারও চাঁদা আদায় করে আসছেন এই দীলিপ মন্ডল ও তার বাহিনীর সদস্যরা! পূর্বের মতই মন্দির উন্নয়নের নামে শীষমহলবাসীর এক ব্যাক্তির কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এমন অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। এক পর্যায়ে অনিচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে রাজি হউন ঐ ভোক্তভোগী।
ঘটনার সূত্রপাত, গত কয়েক বছর ধরেই হরিহরপাড়া শীষমহল এলাকার বাসিন্দা হরি বাবু তার জায়গায় একটি সৌচাগার কিংবা বাথরুম করার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছিলেন। তৎকালীন সময়ে হরি বাবু তার বসবাসটত জায়গায় বাথরুম করার জন্য স্থানীয় কমিটির দ্বারস্থ্য হলেও কমিটি বিভিন্ন তালবাহানা করে আসছিলেন। আর তালবাহানা করার কারন হচ্ছে, বাথরুমে করার জন্য দীলিপ মন্ডলের নিয়ন্ত্রিত তার লোকজনদের একটি অর্থের প্রস্তাবনা করেন!! সরল মানুষ, হরি বাবু কমিটির এমন কুটচাল তেমন একটা ধারনা করতে পারেননি। তবে, তিনি অবগত ছিলেন, তার নিজ জায়গায় বাথরুম করতে হলে শীষমহলের কমিটিকে মন্দির উন্নয়নের নামে চাঁদা দিতে হবে!! তবে, কি চাঁদা দিতে হবে সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। বছরের পর বছর শীষমহল কমিটির লোকজনদের কাছে একটি বাথরুম করার জন্য
স্মরনাপন্ন হলেও কোন ধরনের সুরাহা পাননি তিনি। ৫-ই আগষ্টের পর স্বেরাচারী হাসিনা সরকারের পতন ঘটলেও হাফ ছেড়ে বাচেন শীষমহলবাসী এবং সে সাথে দীর্ঘ দিনের জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হউন হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারন মানুষ গুলা৷ এরপর থেকে শীষমহলবাসীর অনেকেই তাদের বাড়ী নির্মান কাজ শুরু করেন এবং হরি বাবুও তার জমিতে বাথরুম করার মনস্তির করেন এমনকি সে মোতাবেক অগ্রসরও হউন। একটা পর্যায় যারা প্রভাবশালী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদেরকে কিছু না বললেও হরি বাবু'র বাথরুমের কাজে সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজন কুলাঙ্গার দীলিপ মন্ডলের নেতৃত্বে কথিত কমিটির লোকজন হরি বাবু'র বাথরুম তৈরীতে বাধা দেন এবং মন্দির উন্নয়নের জন্য ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করলে হরি বাবু নিরুপায় হয়ে ১৫ হাজার টাকা দিতে রাজি হওয়ার পরই বাথরুমের কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়।
এদিকে, দীলিপ মন্ডলসহ তার বাহিনীর এমন কর্মকন্ডে শীষমহলবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমনকি সাধারন বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, গত ১৮ বছর শীষমহলবাসীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা এই দীলিপ মন্ডল মন্দির উন্নয়নের নামে চাঁদাবাজি করে নিয়েছেন। তবে, জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হলেও কোন উন্নয়ন হয়নি মন্দিরের। তবে, উন্নয়ন হয়েছে ব্যক্তি দীলিপের৷ এছাড়াও সরকার থেকে বিভিন্ন অনুদান আসলেও তার সঠিক কোন তথ্যই শীষমহলবাসীকে দেয়া হত না। যে সকল লোকজন মন্দিরের আয় ব্যয়ের হিসেবের বিষয়ে আলোচনা করার উদ্যোগ নিতেন, দেখা যেত রাতের আধারে বাড়ীঘরে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে তাদেরকে। মূলত, গত ১৮ বছর শীষমহলবাসী ছিল দীলিপ মন্ডলের কাছে জিম্মি!
৫-ই আগষ্টের পর দীলিপের মন্দিরের নামে চাঁদা আদায় বন্ধ হলেও সম্প্রতি আবারো শুরু হয়েছে তার চাঁদাবাজি৷ শীষমহলবাসী তাদের ভাঙ্গাঘর মেরামত করার সিদ্ধান্ত নিলেই দীলিপ মন্ডলের নির্দেশে কথিত নাম সর্বস্ব কমিটির লোকজন গিয়ে হাজির হচ্ছে সে বাড়ীতে এবং বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে মেরামত কাজ!! এমতবস্থায়, শীষমহলবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, কোন ক্ষমতাবলে পূরানো রূপে আবারো আবিভূত হচ্ছে দীলিপ মন্ডল??? এই দীলিপের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কি প্রতিবাদ করার মত কেউই নেই?? তবে, শীষমহলবাসী দীলিপ মন্ডলের মন্দির উন্নয়নের নামে চাঁদাবাজি বন্ধে স্থানীয় এমপি, জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং জেলা বিএনপির জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে, মন্দির ভিত্তিক চাঁদা আদায়ের বিষয়ে শ্রী শ্রী রাধা গৌবিন্দ জিউর বিগ্রহ মন্দরের কমিটির এক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তিনি জানান, অতীতে মন্দিরের নামে টাকা তুলা হয়েছে এটা যেমন সত্য তেমনি সত্য মন্দির উন্নয়ের টাকার কোন হদিস নেই। তবে, এবার মন্দিরের উন্নয়নে যে অর্থই তুলা হবে তা স্বচ্ছতার সহিত মন্দিরের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
শীষমহলবাসী নতুন বাড়ীঘর নির্মান করতে হলে মন্দির উন্নয়নে চাঁদা দিতে হবে অন্যথায় কাজ বন্ধ থাকবে এমনটা কেন?? এ প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কমিটির পদবীধারী ঐ ব্যক্তি জানান, আমরা যেহেতু এলাকার দেখভাল করি আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এলাকার উন্নয়নে কাজ করা। তাই যারা কিনা বাড়ীঘর তৈরী করে তাদের কাছ থেকে মন্দিরের উন্নয়নে যদি কিছু সহযোগিতা আদায় করা যায় এটা তো আর দোষের কিছু না!! অনুদানের অর্থতো মন্দিরের উন্নয়নেই ব্যয় হবে।
তবে, এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কুলাঙ্গার দীলিপ মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত