যুগের নারায়ণগঞ্জ:
দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে মদ বিক্রি করছে নগরের টানবাজারে অবস্থিত গিয়াসউদ্দিন রুবেলের মালিকানাধীন সেন এন্ড কোং লি:।পারমিট ছাড়াই যারতার হাতে তুলে দিচ্ছে মদের বোতল। এমনকি যাদের দুইটার বেশি নেয়ার লাইসেন্স নেই তাদের ঘরে গিয়ে প্রশাসন পাচ্ছে শতশত বোতল।মদের সহজলভ্যতার ফলে এই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ। আর বিক্রির হিসাবে কাটছাট করে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বিরাট অংকের টাকা। এসব দেখবালের জন্য নিয়োজিত সরকারি সংস্থা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের নজরদারি থাকার কথা থাকলেও মাসিক উৎকোচের বিনিময়ে তারা তা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা না করে উল্টো অপকর্মে সহায়তা করছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন মদ বিক্রয়ের সাথে জড়িত একাধিক ব্যাক্তি।
সেন এন্ড কোং লি: মালিক রুবেল প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার চোলাই মদ তৈরি করে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় চোরাইপথে পাচার করে। মূলত নৌ পথে চলে এই চোরাই মদের চোরাকারবারী।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—টানবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ও সদর থানার অদূরেই প্রকাশ্যে এই ব্যবসা চললেও দীর্ঘদিন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত মাসোহারা প্রদানের মাধ্যমে এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছিল চক্রটি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গিয়াস উদ্দিন রুবেল শুধু একজন ব্যবসায়ী নন—তিনি একটি সংগঠিত মাদক নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্তর, এমনকি প্রভাবশালী মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই তাকে অনেকেই ‘চোরাই মদের গডফাদার’ হিসেবে আখ্যা দেন, যার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতেও ভয় পান অনেকেই।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, নগরীর টানবাজারে আবস্থিত রেস্টুরেন্টে আগত কাস্টমারদের কাছে মদ বিক্রির অনুমতি রয়েছে। কিন্তু পারমিট না থাকা কোন ব্যাক্তির মদ বিক্রি না করতে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে। যে পারমিটের বিপরীতে যে পরিমান মদ বিক্রি করবে তা ওই পারমিটে অন্তর্ভুক্ত করে রাখার বাধ্যাদকতা রয়েছে। আর এসব কাজগুলো ঠিকমতো করছে কিনা তা দেখার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নির্ধারিত কর্মকর্তাও আছে। কিন্তু তা কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে এই নিয়মগুলো না মানছে মদের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা, না মানছে খোদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
এসব ব্যপারে জানতে সাংবাদিকের পরিচয় গোপন করে টানবাজারের সেন এন্ড কোং লি: গিয়ে দেখা যায় অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও মদের বোতল কিনতে আসা ব্যক্তিদের কাছে পারমিটের ব্যপারে কোন কিছু জিজ্ঞাসা না করেই ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী মদের বোতল তুলে দিচ্ছে নির্দ্বিধায়।আবার কিছুক্ষণ নিচে দাঁড়ালেই চোখে পড়ছে পার্সেল বিক্রির দৃশ্য। সেখানেও মানা হচ্ছেনা শর্ত যে কেউ টাকা দিলেই তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে মদের বোতল। এতে আইনের ব্যত্যয় ঘটলেও তাদের যেন তাতে কিছই এসে যায়না।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত