1. admin@jugernarayanganj.com : jugernaraya nganj nganj : jugernaraya nganj nganj
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

বিএনপির কাঁধে ভর করে বহিষ্কৃতদের নির্বাচন!

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী সাংগঠনিক শক্তি ও ভোট-ব্যাংকে এগিয়ে থাকলেও তার জয়ের পথটা সহজ নয়। কেননা, বিএনপিরই একটি অংশ আসনটিতে বিএনপি ডোবাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহিষ্কার করেও ওইসব নেতা-কর্মী ও সমর্থকের দলবিরোধী কার্যক্রম থামানো যাচ্ছে না। তারা বিএনপিরই বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিচ্ছেন, যা সাংগঠনিকভাবে বিএনপিকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলটিতে দুর্বল করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আসনটিতে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী লড়ছেন ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে। ২০১৮ সালেও আসনটিতে জোট থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এ যুগ্ম মহাসচিব।

সেবার তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। স্থানীয় বিএনপির বড় একটি অংশের সহযোগিতা ছাড়াই বিতর্কিত ওই নির্বাচনেও শামীম ওসমানের বিপরীতে ৭৬ হাজারেও বেশি ভোট পান তিনি।

বিএনপি ও জমিয়তের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত সময়ে সরকারবিরোধী লড়াই-সংগ্রামে বিএনপি জোটের সঙ্গে থেকে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন কাসেমী। জেল-জুলুমও তাকে সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি ২০১৮ সালে প্রার্থী হওয়ার কারণেও আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়তে হয়েছিল তাকে। কয়েকমাস খেটেছিলেন জেলও। দীর্ঘ এই সংগ্রাম ও ত্যাগী ভূমিকার কারণে এবারও তাকে মূল্যায়ন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এমনকি তারেক রহমান নিজে নারায়ণগঞ্জে জনসভায় এসে বলেছেন, “ধানের শীষই খেজুর গাছ”। এবং নেতা-কর্মীদের মনির হোসাইন কাসেমীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

কিন্তু শুরু থেকেই বিএনপির এ সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করতে থাকে দলটিরই কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। যারা এর আগেও বিএনপি সরকারের আমলে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে দ্বিধাবোধ করেননি। তাদের কেউ কেউ আবার সরাসরি দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোট-প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছেন। তারা প্রতিনিয়ত বিএনপির সিদ্ধান্তকে ছোট করে নানা জায়গায় বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন। যা দল ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে বলেও অভিযোগ বিএনপি নেতাদের।

আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন দু’জন- মো. শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। গিয়াস এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জয় পেয়েছিলেন। বিএনপি জোট সরকারের আমলে পাঁচ বছর মেয়াদে তিনি সংসদ সদস্যের দায়িত্বও পালন করেছেন। অন্যদিকে, শাহ আলম ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। যদিও তিনি আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নন্দিত অভিনয়শিল্পী সারাহ বেগম কবরীর কাছে পরাজিত হন।

এ দুই নেতা ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। বিদ্রোহী হওয়ার পর তারা দু’জনই দলটি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। এর আগে গিয়াস জেলা বিএনপির সভাপতি এবং শাহ আলম সহসভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। কিন্তু দলের প্রতি শেষ মুহুর্তে তারা আনুগত্য প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন। বরং তারা নিজেদের অনুসারী কর্মীদের নিয়ে আসনটিতে বিএনপি ডোবাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

যদিও বিএনপি জোটের প্রার্থীকে সুবিধা দিতে এ দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে যেসব বিএনপি নেতারা কাজ করছেন বা করেছেন তাদের অনেককেই বহিষ্কার করেছে দল। কিন্তু তবুও দলের প্রতি আনুগত্য না দেখিয়ে ওইসব নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।

যদিও জেলা ও ফতুল্লা থানা বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মীই জোট মনোনীত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

দলীয় নেতারা বলছেন, গিয়াস উদ্দিন এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেছেন। তারপর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও ছিলেন সক্রিয়। তিনি দলটির শ্রমিক উইং শ্রমিক লীগের সহসভাপতিও ছিলেন। কিন্তু দলটি থেকে ১৯৯৬ সালে মনোনয়ন না পেয়ে মনক্ষুন্ন হন। জাপা ও আওয়ামী লীগে সুবিধা করতে না পেরে তিনি জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। বিএনপি যোগ দেওয়ার পরপরই ধানের শীষের মনোনয়নে এমপিও হন।

অন্যদিকে শাহ আলমের বিরুদ্ধেও প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সঙ্গে ‘আঁতাত’ করে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে। এমনকি তিনি দলও ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ফতুল্লা অঞ্চলের নেতা-কর্মীরা হামলা-মামলায় জর্জরিত হলেও অনেকটা নির্ঝঞ্ঝাট জীবন যাপন করে গেছেন শাহ আলম। তিনিই আবার এখন নিজেকে বিএনপি পরিচয় দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও বিএনপির প্রার্থী দাবি করা এবং ধানের শীষের নামে নিজের প্রতীকে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে কয়েকদিন আগে আদালতে একটি মামলারও আবেদন করেছেন বিএনপির এক সমর্থক। ওই মামলা তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে বলেও জানান ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়া।

ফতুল্লা থানা বিএনপির শীর্ষ দুইজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলম দু’জনই সুসময়ের মাছি। তারা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির বাইরে ছিলেন। শিল্পপতি শাহ আলম ২০১৮ সালে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর দলও ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিগত কয়েক বছরে রাজপথ তো দূরের কথা তাকে নেতা-কর্মীদেরও পাশে পাওয়া যায়নি। গিয়াসউদ্দিনও জেলা বিএনপির সভাপতির হওয়ার আগে ও পদ ছাড়ার পরে দলটির কর্মসূচিতে ছিলেন গড়হাজির। তারাই আবার এখন বিএনপিকে ডোবানোর জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে।”

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট