যুগের নারায়ণগঞ্জ:
শেষ সময়ে নির্বাচনী প্রচারণা আর গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ভোটের মাঠ।
দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে প্রচারণা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ চলে গ্রাম-গঞ্জ, বাজার, হাট আর পাড়া-মহল্লায়। উঠান বৈঠক, পথসভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা, সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ঘাটতি রাখতে রাজি নন প্রার্থীরা। এ আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ও নীরব ভোটাররাই হবেন প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের টার্নিং পয়েন্ট।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে জয়-পরাজয়ের জটিল সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকেদের ভোট। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির তিনবারের সংসদ সদস্য অভিজ্ঞ প্রার্থীকে প্রায় লক্ষাধিক ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের তরুণ প্রার্থী। ২০০৮ সালের পরাজিত প্রার্থী এ বছর স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েছেন। ভোটের মাঠে অনুপস্থিত থাকলেও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। তাই এবারের ভোটের মাঠের সমীকরণে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এ আসনে লড়াই কেবল ব্যক্তি বা দলকেন্দ্রিক নয়, বরং ভোটার পরিসংখ্যান, সাংগঠনিক শক্তি ও ভোট বিভাজনের অঙ্কও মুখ্য ভূমিকা রাখবে।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো: রেজাউল করিম, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো: শাহজাহান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সাবেক রাষ্টদূত গোলাম মসিহ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান মিল্কি, জনতার দলের প্রার্থী আব্দুল করিম মুন্সি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি ও এবি পার্টির আরিফুল ইসলাম।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৬ জন মহিলা ভোটার রয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার ২০৪ জন। দুইজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো: রেজাউল করিম, পরে ১/১১পর ২০০৮ সালে রেজাউল করিমকে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের তরুণ প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়সার। ২০১৪ সালে এ আসনে আওয়ামী লীগ জোটের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালেও আওয়ামী লীগের জোটের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা ১ লাখ ১২ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনটিতে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থক। বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের রয়েছে রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা, ব্যক্তিগত প্রভাব ও তার নিজস্ব ভোটার। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে দলীয় নেতারা তার পক্ষে অবস্থান নেন। তবে জুলাই বিপ্লবে হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যার ঘটনায় ৭টি মামলা দায়েরের ঘটনায় বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ হন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়টি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করতে পারলে হয়তো বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে।
অপর দিকে বিএনপির দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়ে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভোট লুফে নিতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ।
বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ধানের শীষের বিজয় হলে এ দেশের নিপীড়িত মানুষের বিজয় হবে। তিনি গত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে দলকে সংগঠিত করেছেন। সোনারগাঁ সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ তাকে নির্বাচিত করবেন বলে প্রত্যাশা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো: রেজাউল করিম বলেন, তিনি এ আসনে চারবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উন্নয়ন করেছেন। এ উন্নয়নের মূল্যায়ন হিসেবে তাকে নির্বাচিত করবেন ভোটাররা।
জামায়াতের প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. ইকবাল হোসাইন ভূইয়ার দাবি, মানুষ উচ্চশিক্ষিত, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করবেন। দীর্ঘ সময় ধরে এ আসনে তিনি জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেরিয়েছেন। দীর্ঘ সময় প্রচারণায় মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। সেই হিসাবে ভোট দিয়ে তাকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেবেন।
অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি একজন শিক্ষিত, মার্জিত ও যোগ্যপ্রার্থী। তিনি আগেও সংসদ সদস্য ছিলেন। অভিজ্ঞতার বিবেচনায় তাকে সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা করে যাচ্ছেন তিনি। দলীয় লোকজন ছাড়াও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পাবেন।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত