
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নিজেদের বৈধ অবৈধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে জিম্মি করার চেষ্টা চালাচ্ছেন সিদ্ধিরগঞ্জে ভোটশূণ্য জনশূণ্য ৪জন ব্যক্তি, যারা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ পদে আছেন। মুলত মান্নানকে মনোনিত ঘোষণার পূর্ব থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জে তারা মান্নানের পক্ষে কাজ করার দাবি তুলে মান্নানকে জিম্মি করে নিজেদের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখছেন তারা। ভোটে নির্বাচিত হওয়ার আগেই সিদ্ধিরগঞ্জের নির্বাচনী কার্যক্রমকে নিজেদের মুঠোবন্ধি করার অপচেষ্টা করছেন এই চার নেতা। কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জে তাদের ভোটের মাঠে জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনের সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টর দখলবাজি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মমিনুর রহমান বাবু, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর ও মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আয়েশা আক্তার দিনা। ৫ আগস্টের পর সিদ্ধিরগঞ্জের ঝুট লুটের ঘটনায় সাহেদকে জড়িত থাকার ঘটনা ঘটে।
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের ৪১টি বিভিন্ন পর্যায়ের কারখানার ঝুট নিয়ন্ত্রণে গিয়াস ও তার পুত্র রিফাত সাদরিলের সঙ্গে বিরোধে জড়ান এই ৪জন নেতা। এ ছাড়াও অন্যান্য সেক্টর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাগরের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায়ে মহানগর ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ঝুট নিয়ে সাগরের গোলাগুলির ঘটনায় সাগরের সহযোগী সোহাগকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। উপরোক্ত ৪ জন নেতা এই সিন্ডিকেটের প্রধান। তাদের এইসব সেক্টর টিকিয়ে রাখতেই মুলত মান্নানের পক্ষে অবস্থান নেন তারা। এদের মধ্যে সাগর কৌশলে দূরে সরে থাকেন এবং মান্নানকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার পর মান্নানের পক্ষে নামেন এবং মান্নানপুত্র খাইরুল ইসলাম সজীবকে ম্যানেজ করে নেন। সিদ্ধিরগঞ্জের ঝুট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গিয়াসপুত্র রিফাতের পক্ষে তৈয়ম হোসেন বাদী হয়ে দিনা, সাহেদ ও বাবুর নামে কোর্টে মামলা ঠুকে দেন।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দাও নন সাহেদ আহমেদ। বাবুও স্থানীয় নন। তিনি কুমিল্লার বাসিন্দা। দিনা ছিলেন নাসিকের নারী কাউন্সিলর। নারী কাউন্সিলর হয়ে চাপাবাজির লিমিট ছাড়িয়ে গেছেন দিনা। কিন্তু সাথে দশজন কর্মীও নাই তার। সাগরের এলাকায় বিতর্কিতদের একজন। তার নাম শুনলে আতংকে ওঠে সাধারণ মানুষ। তার অস্ত্রবাজের রাজনীতি প্রকাশ পাওয়ায় এলাকার মানুষ আতংকিত। কিন্তু তারাই মান্নানকে বুঝিয়ে নিচ্ছেন তারা বিশাল ভোটের মালিক। কিন্তু কার্যত রাজনীতি আর জনগণের ভোট টানা এক জিনিস নয় সেটা তারা মানতে নারাজ। তাদের কর্মকাণ্ডের কারনে সিদ্ধিরগঞ্জে মান্নানের ফলাফলে বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।