
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ‘জাহাজ’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দুলাল হোসেনের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও তার পরপরই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকের প্রশ্ন—নিরাপত্তার অজুহাতে করা আবেদনটি কি আদৌ নির্বাচনী ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য ছিল, নাকি অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য ?
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রায়হান কবির মো. দুলাল হোসেনের নামে একটি রিভলবারের লাইসেন্স অনুমোদন দেন।
একইদিন সন্ধ্যায় মুঠোফোনে দুলাল হোসেন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচন করতে গিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ায় তিনি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
তবে এই লাইসেন্স প্রাপ্তির ঠিক একদিনের মধ্যেই বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রূপগঞ্জে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নাটকীয়ভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
একই সঙ্গে তিনি বিএনপি প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দুলাল হোসেন বলেন, “আমি বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি এবং তার পক্ষে কাজ করবো।”
কিন্তু এই ঘোষণার সময় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ আর উঠে আসেনি। ফলে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সময়কাল নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের একাংশের প্রশ্ন—যদি নিরাপত্তাহীনতাই প্রধান সমস্যা হতো, তবে লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন ? আবার যদি শুরু থেকেই বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত থাকতো, তবে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে অস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদনই বা কেন ?
একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে একজন প্রার্থীর দ্রুত অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়া এবং পরদিনই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ ও ‘নির্বাচনী অবস্থান’ কতটা প্রভাব ফেলে—সে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা অবস্থান জানানো হয়নি। তবে জনমনে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের নীতিমালা ও নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনাটি নিছক কাকতালীয়, নাকি পরিকল্পিত—তা নির্ধারণের ভার পাঠক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে একদিনে অস্ত্রের লাইসেন্স, আরেকদিনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার—এই সমীকরণ যে সহজে এড়িয়ে যাওয়ার নয়, তা বলাই বাহুল্য।