যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একসময় যাঁদের নাম উচ্চারিত হলেই সমীকরণ বদলে যেত, সেই বিদ্রোহী নেতাদের রাজনৈতিক বলয় এখন দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামা এসব নেতা একের পর এক সাংগঠনিক আঘাতে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহীদের এই দুর্বলতা এখন আর আড়ালে নেই, মাঠের বাস্তবতায়ই তা স্পষ্ট।
নারায়ণগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি থাকলেও বিএনপির কেন্দ্র থেকে ঘোষিত কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত তাঁদের জন্য পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি স্থগিত করা হয়। এর আগে সোনারগাঁও থেকে সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, আড়াইহাজারের চারবারের নির্বাচিত এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ দুলাল হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে গত ৩০ ডিসেম্বর বহিষ্কার করা হয় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলমকে।
এই সিদ্ধান্তগুলো নারায়ণগঞ্জের আসনগুলোতে বিদ্রোহীদের জন্য নতুন করে চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এতে একসময়ের শক্ত ঘাঁটিতেও তাঁদের প্রভাব কমে গেছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে খেজুরগাছ প্রতীকে বিএনপি-জোট মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর বিপরীতে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে আছেন গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলম। দলীয় মনোনীত প্রার্থীর জন্য এই দুজন শুরুতে বড় চ্যালেঞ্জ হলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের বলয় সংকুচিত করতে সংগঠনিক কৌশল নেওয়া হয়। বহিষ্কারের পরও তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে গেলেও দলীয় কর্মীরা বহিষ্কারের আশঙ্কায় তাঁদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। ফলে যে কর্মীভিত্তির ওপর ভর করে তাঁরা নির্বাচনে নেমেছিলেন, সেই ভিত্তিই এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
একই চিত্র নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও। এখানে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে গিয়াস উদ্দিন ও অধ্যাপক রেজাউল করিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রচারণায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি স্থগিত করা হলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের আরেকটি বড় ধাক্কা আসে।
একসময় গিয়াস উদ্দিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সিদ্ধিরগঞ্জে এখন মান্নানের অনুসারীদের অবস্থান দৃশ্যমানভাবে শক্ত হচ্ছে।
সোনারগাঁওয়ে অধ্যাপক রেজাউল করিমের প্রভাব বলয়ও ছোট হয়ে এসেছে। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক পৃথিবী আগের মতো আর বিস্তৃত নেই বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের রূপগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থী মো. দুলাল হোসেন শুরুতে ধারণা করেছিলেন, তাঁকে হয়তো বহিষ্কার করা হবে না। বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে করা জামায়াতে ইসলামীর রিটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। তবে রিট কার্যকর না হওয়া এবং বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর তাঁর শিবিরে হতাশা স্পষ্ট।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুরের অবস্থানও দিন দিন দুর্বল হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২৩ জানুয়ারি ভোররাতে তারেক রহমানের নির্বাচনকালীন জনসমাবেশের পর এই আসনের রাজনৈতিক হিসাব পুরোপুরি পাল্টে যায়। একসময় যাঁদের চারপাশে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় থাকত, এখন তাঁদের ঘিরে শূন্যতা চোখে পড়ছে।
এদিকে দলীয় প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করছেন। এতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শিবিরে অনিশ্চয়তা ও বিভাজন আরো গভীর হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘দল এবং দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। বিদ্রোহীদের সঙ্গে দলের কেউ নেই। নির্বাচনের ফলাফলে তাঁদের কোনো প্রভাব পড়বে না।’
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত