যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা বিএনপির ২০০৯ সালের সম্মেলনে সভাপতি হোন শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম ও সাধারণ সম্পাদক হোন আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। ওই সম্মেলনে প্রতিদ্বন্ধিতা করায় মনিরুল আলম সেন্টুকে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগের কমিটিতে সেন্টু ছিলেন থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় দল থেকে বহিস্কৃত হোন সেন্টু। ২০২১ সালে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগে যোগদান করে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন তিনি। ১ জানুয়ারী আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত আওয়ামীলীগ নেতা সেন্টুকে দলে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানাগেছে, নোয়াখালীর বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম টিটুর রাজনৈতিক গুরু মনিরুল আলম সেন্টু। সেন্টুর হাত ধরে যুবদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন টিটু। সেই শহিদুল ইসলাম টিটু বর্তমানে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি। যদিও ৫ আগস্টের পরবর্তীতে বেশকটি অনুষ্ঠানে টিটু স্বীকার করেছেন বিএনপির রাজনীতিতে সেন্টুর মত নেতাকে প্রয়োজন। টিটু যখন থানা যুবদলের সভাপতি থেকে জেলা যুবদলের নেতৃত্বের লড়াইয়ে থাকেন তখনো সেন্টু পেছন থেকে টিটুকে সহযোগীতা করেছেন। সেই সেন্টু এবার রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন- এখানে নোয়াখালীর নিবাসি শহিদুল ইসলাম টিটুকে সভাপতি ও কুমিল্লার বাসিন্দা আব্দুল বারী ভুঁইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করেছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গিয়াস ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন। বর্তমানে এই দুজন নেতার ফতুল্লা বিএনপির রাজনীতিতে তেমন কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। আইনজীবী হওয়ার সুবাধে কোর্টপাড়ায় বেপরোয়া আচরণ করে তাফালিংয়ে ওস্তাদ হলেও বারী ভুঁইয়ার ফতুল্লার বিএনপিতে তার সাংগঠনিক কোনো দক্ষতা যোগ্যতা কোনটাতেই নাই। গিয়াসের আশীর্বাদে সে থানা বিএনপির সেক্রেটারি হোন। থানা কমিটির পদ বাঁচাতে গিয়াসকে পল্টি দিয়ে বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহামুদের মুরিদ হয়েছেন বারী ভুঁইয়া। বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারাও নেই তাদের নেতৃত্বে। যে কারনে এই টিটু ও বারীর কমিটিও বিলুপ্তির দাবি ওঠেছে নেতাকর্মীদের মাঝ থেকে।
২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে আহ্বায়ক ও নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লাকে সদস্য সচিব করে ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহামুদ। ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারী জাহিদ হাসান রোজেলকে আহ্বায়ক ও শহিদুল ইসলাম টিটুকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন তৎকালীন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি ও সদস্য সচিব মামুন মাহামুদ।
২০২২ সালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পান গিয়াসউদ্দীন ও সদস্য সচিব পদে গোলাম ফারুক খোকন। ২০২৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী শহিদুল ইসলাম টিটুকে আহ্বায়ক ও আব্দুল বারী ভুঁইয়াকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন তারা। ওই বছরের ১৩ জুন দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে ১৬ জুন টিটুকে সভাপতি ও বারীকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেন গিয়াস ও খোকন। এই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হোন রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। তাকেও বহিস্কার করা হলে তিনিও বিএনপিতে ফিরেছেন। আর রিয়াদ চৌধুরী দলে ফেরাতে ফতুল্লা বিএনপির রাজনীতি শক্তিশালী অবস্থানে পূনরায় ফিরেছে বলে নেতাকর্মীদের অভিমত। সে সাথে ফতুল্লার বিএনপির নেতাকর্মীরাও অনেক উচ্ছিসিত।
সম্পাদক : রনি কুমার দাস, প্রকাশক : মোঃ আল আমিন মিয়া রকি কর্তৃক প্রকাশিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : পশ্চিম ভোলাইল মেলিটিরী বাড়ি কাশীপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ।
যোগাযোগ : ০১৫১১-৭০৫৩৮৪, ০১৯১৬-১৮৭২৫৪.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত