1. admin@jugernarayanganj.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ : যুগের নারায়ণগঞ্জ
  2. multicare.net@gmail.com : যুগের নারায়ণগঞ্জ :
অবশেষে বহিষ্কৃত সকল নেতাকে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি: বাকি রইলো তৈমূর! - যুগের নারায়ণগঞ্জ
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিদ্ধিরগঞ্জে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের গোডাউন থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার আড়াইহাজারে বিএনপি নেতা হত্যা: ‘মামলা বাণিজ্যে’ বিচার প্রক্রিয়া জিম্মি, ক্ষোভে ফুঁসছে জনপদ ফতুল্লায় শিক্ষিকাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক কারাগারে সোনারগাঁয়ে নাশকতার মামলায় আ.লীগের ৪৮ আসামি, গ্রেপ্তার ৫ নারী সহকর্মীদের নর্তকী বলে আখ্যা দিলেন টিপু! সর্বত্র সমালোচনা নারায়ণগঞ্জে ‘জলবায়ু সহিষ্ণু ক্যাম্পাস উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ নারায়ণগঞ্জে পৃথক অভিযানে ১১৯ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২ নারায়ণগঞ্জে আ.লীগের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার র‍্যাবের অভিযান: রাসেল পার্ক থেকে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ গ্রেপ্তার ৫ শিশু ধর্ষন: ফতুল্লায় ভোক্তভোগী পরিবারকে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিলেন ডিসি-এসপি

অবশেষে বহিষ্কৃত সকল নেতাকে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি: বাকি রইলো তৈমূর!

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৭০ বার পড়া হয়েছে

যুগের নারায়ণগঞ্জ:
অবশেষে বিএনপির রাজনীতিতে ফিরেছেন আওয়ামীলীগে যোগদান করে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। একই সঙ্গে ফতুল্লা থানা বিএনপির কান্ডারী দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে দলে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি। একে একে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে ফিরেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত সকল নেতারা। এবার বাকি রইলেন মাত্র তৈমূর আলম খন্দকার। মনিরুল আলম সেন্টু যখন আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বিএনপিতে ফিরেছেন তখন তৈমূর আলম খন্দকারের দলে ফেরাও অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

জানাগেছে, সর্বশেষ ১ জানুয়ারী মনিরুল আলম সেন্টু ও রিয়াদ চৌধুরীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলে নেয়ার বিষয়টি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। মনিরুল আলম সেন্টু ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদে তিনি ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, যে ইউনিয়নে প্রায় দেড় লক্ষাধিক ভোটার রয়েছেন।

অন্যদিকে জানাগেছে যে, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক বহিষ্কৃত সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারের বিষয়েও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির রাজনীতি থেকে যেসব নেতারা বহিষ্কৃত হয়েছিলেন তাদের বহিষ্কার প্রত্যাহার করে দলে নিয়েছে বিএনপি। ভিন্ন দলে চলে যাওয়া বেশকজন নেতাকেও বিএনপিতে ফেরানো হয়েছে। এবার যেকোনো সময় তৈমূর আলম খন্দকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে বিএনপির ভেতরে বিরোধ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। আগেই জানা গিয়েছিলো যে, মনিরুল আলম সেন্টু ও রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর বিষয়ে সিদ্ধান্তের পর তৈমূর আলম খন্দকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবে কেন্দ্রীয় বিএনপি। ইতিমধ্যে তৈমূর আলম খন্দকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। অনেকেই তৈমূরকে বিএনপিতে একটি লিখিত দরখাস্ত দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তৈমুর আলম বিএনপিতে দরখাস্ত দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে ফিরতে নারাজ। তবে, দল যদি স্বেচ্ছায় তাকে ডাকেন তবেই তিনি দলে ফিরতে রাজি।

তৈমূর আলমের বিষয়ে জানাগেছে যে, তৈমূর আলম খন্দকার তৃণমুল বিএনপি নামক দলের সঙ্গে এখন আর সম্পৃক্ত নন। তিনি গত জাতীয় নির্বাচনের পরপরই সেই দলের কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থেকেছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বলেও দাবি করেছেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব মানেন বলেও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে বলেছেন। চলতি জাতীয় নির্বাচনেও তাকে বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিলেও তিনি কোনো দল থেকে প্রার্থী হননি। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর আগে থেকেই তিনি নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীদের নিয়ে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল করেছেন। খালেদা জিয়ার জানাযায় তিনি অংশগ্রহণও করেছেন।

এদিকে ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলেন তৈমূর। ওই নির্বাচনে তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন মহানগর বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। যে কারনে দুজনকেই বিএনপি থেকে বহিষ্কার করে দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। ২৬ নভেম্বর এটিএম কামালের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে দলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে কাজ করায় বিএনপি থেকে মনিরুল ইসলাম সেন্টুকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগে যোগদান করে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন সেন্টু। সম্প্রতি সেন্টু বিএনপির কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছেন এবং ফতুল্লা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা সেন্টুকে বিএনপিতে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি তুলেছেন।

সরকার পতনের ৫ আগস্ট একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হোন রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। এ ছাড়াও ২০১৮ সাল ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে সরাসরি জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করায় মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাশেম শকু, মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী মুরাদ, সদস্য সুলতান আহমেদ ভুঁইয়াকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাদের সকলকেই বিএনপি বহিষ্কার প্রত্যাহার করে দলে নিয়েছেন।

দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সোনারগাঁও ‍উপজেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়াকে বহিষ্কার করা করেছিলো কেন্দ্রীয় বিএনপি। সম্প্রতি তাকেও দলে নিয়েছে বিএনপি। আওয়ামীলীগের সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন টিটু। ওই সময় তাকে বহিষ্কার করা হয়। সম্প্রতি তার বহিষ্কার করে তাকে দলে নিয়েছে বিএনপি।

এ ছাড়াও ৫ আগস্ট পরবর্তীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে ডিটেনশনে থাকা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি এসএম আসলাম ও থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক টিএইচ তোফাকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি। সম্প্রতি বহিষ্কার প্রত্যাহার করে তাদের দুজনকেই দলে নিয়েছে বিএনপি। এদের মধ্যে টিএইচ তোফা ২০১৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়ার হাতে ফুলের নৌকা উপহার দিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছিলেন।

একই সময়ে এক সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনকে বহিষ্কার করা হলেও সম্প্রতি তার বহিষ্কার করে প্রত্যাহার করে তাকে দলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট