
যুগের নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় আলোচিত এক ব্যক্তিকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র ও এলাকাবাসীর দাবি, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত জিলানী ফকির বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল ফতুল্লা থানা কমিটির আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছেন যা নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জিলানী ফকির দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিকবার ফতুল্লা মডেল থানা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হন। সংশ্লিষ্ট থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
অভিযোগকারীরা জানান, বিএনপির রাজনীতির ব্যানারকে “সাইনবোর্ড” হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুন্নতি লেবাস, ধর্মীয় পরিচিতি ও সামাজিক সংগঠনের আড়ালে নিজেকে একজন “দ্বীনদার” হিসেবে উপস্থাপন করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন জিলানী ফকির।
স্থানীয়দের মতে, তিনি একটি মসজিদ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে যুক্ত রয়েছেন এবং ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনও গড়ে তুলেছেন।
তবে এসবের অন্তরালে মাদক কারবার চলমান ছিল এমনটাই অভিযোগ।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, জিলানী ফকিরের ছেলেও এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং বর্তমানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে পিতা-পুত্রের এই কর্মকাণ্ডে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে অনেকেই ভয় পান বলেও অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ফেনসিডিলসহ আটক হওয়ার পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়গুলো রফাদফা করা হয়েছে।
একইভাবে বিপুল অর্থের প্রভাব খাটিয়ে ওলামা দলের ফতুল্লা থানা কমিটির আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
এ নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ?
একাধিক মাদক মামলার অভিযোগ থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্বে আসীন হন?
শেল্টারদাতা ও অর্থের উৎস তদন্তের দাবি :
সচেতন মহলের মতে, শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়
তার শেল্টারদাতা, অর্থের উৎস, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং মাদক সিন্ডিকেটের পাইকারি আড়তদারদের শনাক্ত করা জরুরি।
এজন্য সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ, কল ট্র্যাকিং এবং আর্থিক লেনদেন তদন্তের জোর দাবি উঠেছে।
এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা :
স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ওলামা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন,
যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থলোভী নেতৃত্বের মাধ্যমে যদি এমন ব্যক্তিদের পদ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে জিলানী ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হোক।
বক্তব্য নিতে গিয়ে ফোন বন্ধ :
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ফতুল্লা থানা ওলামা দলের আহ্বায়ক জিলানী ফকিরের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে (০১৭১৫-৫৬৩৪@@) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক পদ ব্যবহার করে যদি সত্যিই মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়ে থাকে, তবে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, সমাজ ও রাজনীতির জন্যও ভয়াবহ হুমকি।
এখন দেখার বিষয়, নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্ব এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়?